চাদাঁ না দেওয়ায় ধান চাষ বন্ধ করে দিলেন ইউপি সদস্য , তার হুকুমেই মাছ ভর্তি পুকুরে বিষ প্রয়োগ
০২ এপ্রিল, ২০২০ ০৪:২৮ অপরাহ্ন


  

  • কামারখন্দ/ অন্যান্য:

    চাদাঁ না দেওয়ায় ধান চাষ বন্ধ করে দিলেন ইউপি সদস্য , তার হুকুমেই মাছ ভর্তি পুকুরে বিষ প্রয়োগ
    ২৩ মার্চ, ২০২০ ১০:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    খাইরুল ইসলামঃ সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামে ভূমিহীনদের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা এবং চাঁদা না দেওয়ায় প্রায় ১২০ বিঘা পুকুরে ধান চাষ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি কামারখন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীয়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঝাঐল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ ৭জনের নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরসহ ৪টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূমিহীন ওই পরিবারগুলো। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রামীনব্যাংক এর রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় ২১ বছর ধরে ভূমিহীনরা নলকা থেকে ঝাঐল ওভারব্রীজ পর্যন্ত থাকা প্রায় ১২টি পুকুরে চাষ করছেন ভূমিহীনরা। ভূমিহীন পরিবারগুলো পুকুরগুলোতে মাছ চাষের পাশাপাশি পানি শুকিয়ে গেলে সেখানে ইরি মৌসুমে ধান চাষ করে জীবীকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু গত ৬ফেব্রয়ারী ২০২০ সালের ২১নং পুকুরে ইউপি সদস্য মো. হামিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তারসহযোগীরা বিষ প্রয়োগ ও গ্যাসের ট্যাবলেট দিয়ে দেড় লক্ষ টাকার মাছ মেরে ফেলেছেন। বর্তমানে চাঁদা না দিলে পুকুরে ধান চাষ করতে দিচ্ছে না ও বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন। ভূমিহীন আব্দুল মজিদ (৭৫)সহ কয়েকজন জানান, এই পুকুরগুলো থেকে মাছ ও ধান চাষ করে আমরা যা পেতাম তা দিয়ে সংসার চালাতাম। হামিদুল মেম্বারসহ কয়েকজন আমাদের পুকুরগুলো জোড় করে দখন করার চেষ্টা করছেন। সে পুকুর দখল করার জন্য রাতে বিষ ও গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে মাছ মেরেছেন, এখন আবার চাঁদা দাবী করছে চাঁদার টাকা না দেওয়াতে ধান চাষ করতে দিচ্ছে না। ধান চাষ যদি না করতে দেয় তাহলে আমরা কি খেয়ে বাঁঁচবো। আমরা ওই পুকুরগুলো চাষ করে দু বেলা দু মুঠো ভাত খাই। রোহিঙ্গাদের মতো আমরা বসে বসে খাই না। এজন্য সরকারের কাছে অনুরোধ আমাদের পুকুরগুলোতে যেন আগের মতো মাছ ও ধান চাষ করতে পারি। আর যদি তা না হয় তাহলে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। এ ব্যাপারে ঝাঐল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য হামিদুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়গুলো অস্বীকার করে বলেন, আমি গরীব মানুষের সাথে আছি। গ্রামের শান্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষকেই বলছি তোমরা যারা আগে ধান চাষ করেছো তারাই খাও। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস,এম শহিদুল্লাহ সবুজ জানান, ভূমিহীনদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দীর্ঘদিন যাবত তারা পুকুরগুলোতে মাছ ও ধান চাষ করছে। ইউপি সদস্য কেন সেগুলো দখল করার চেষ্টা করছে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নিবো।
    মোঃ খায়রুল ইসলাম ২৩ মার্চ, ২০২০ ১০:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 383 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    কামারখন্দ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    13237126
    ০২ এপ্রিল, ২০২০ ০৪:২৮ অপরাহ্ন