কাজিপুরে বিল-নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী প্রজাতির মাছ
০২ এপ্রিল, ২০২০ ০৪:০০ অপরাহ্ন


  

  • কাজিপুর/ অন্যান্য:

    কাজিপুরে বিল-নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী প্রজাতির মাছ
    ২০ মার্চ, ২০২০ ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    কাজিপুর প্রতিনিঃ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজার এক সময় দেশী মাছে সয়লার হয়ে যেত। এখন সেসব মাছ তেমন দেখা যায় না। নদী-বিল-জলাশয়ে জেলেদের জালে পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়ে না। দেশীয় মাছের মধ্যে রয়েছে কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, মলা, চেলা, শৌল, বোয়াল, আইড়, ভ্যাদা, বাইম, খলিসা, ফলি, চিংড়ি, গজার, চিতল, কাকিলা সহ প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ। এসব মাছ হারিয়ে যাওয়ার পেছনে অন্তত ১৪টি কারণকে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। অগ্রহায়ণ-পৌষ-মাঘ মাসে পুকুর, খাল, ডোবা, ঘেরের পানি কমতে থাকলে দেশী মাছ ধরার ধুম পড়ে যেত। এখন সেসব দেখা যায় না। বর্ষাকালে ধানের জমিতে কইয়া জাল, বড়শি ও চাই পেতে মাছ ধরার রীতিও হারিয়ে গেছে অনেক এলাকা থেকে। এক সময় যারা পুকুর, খাল-বিল, ডোবা, নালায় মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা পূরণ করত, এখন তাদেরকে বাজার থেকে মাছ কিনতে হচ্ছে। দেশী মাছের আমদানি কম ও দাম বেশি হওয়ায় চাষের মাছ কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় মাছ হারিয়ে যাওয়ার জন্য মূলত অনেক কারণ দায়ী। এর মধ্যে জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ, নদীসংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থলের অভাব, ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ ধরে ফেলা, ডোবা-নালা-পুকুর ছেঁকে মাছ ধরা, মাছের প্রজননে ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হওয়া অন্যতম। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এই ১৪টি কারণে ৫০টির বেশি দেশী প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। কাজিপুর মৎস্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, হারিয়ে যাওয়া দেশী মাছের প্রজাতির সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি। হাটবাজারে এখন আর মিঠাপানির সুস্বাদু দেশী মাছ মিলছে না। দেশে হাইব্রিড জাতের সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, মিরর কার্প, কমন কার্প, বিগহেড, থাইসরপুঁটি, থাই কৈ, থাই পাঙ্গাস, বøাক কার্প, আফ্রিকান মাগুর, পাঁচ প্রজাতির তেলাপিয়াসহ ২৪ প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। হাইব্রিড জাতের মাছ চাষের আগে পুকুর ডোবার পানিতে নানা প্রকার বিষ মেশানোর কারণে মাছ, শামুক ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, অধিক মুনাফার আশায় হাইব্রিড মাছের চাষ করতে গিয়ে জলাশয়গুলো থেকে দেশী মাছের বিলুপ্ত ঘটানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি ও চাষাবাদ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। একই সাথে নেটজাল ও মশারি জাল ব্যবহার করে খালে-বিলে-নদীতে মাছ ধরার কারণেও দেশীয় প্রজাতীর মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে। মৎস্য বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, দুই দশক আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় আড়াই শ’ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ পাওয়া যেত। মেঘাই বাজারের মাছ ব্যবসায়ী কাশেম আলী বলেন, ২০-২৫ বছর আগে আমাদের এলাকায় মাছ কিনে খাওয়ার তেমন রেওয়াজ ছিল না। শুধু ইলিশ মাছ কেনার কথাই মনে পড়ে। মাছের প্রয়োজন হলে সবাই বাড়ির সামনে খালে বা নদীতে চলে যেত। কাজিপুর সদর ইউপি সদস্য টি এম জাহিদুল ইসলাম শামীম (৪২), মেঘাই গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৪৫), শিমুলদাইড় গ্রামের আসলাম আলী (৪২) জানিয়েছেন, স্থানীয় মেঘাই বাজারে প্রতিদিন দেশী প্রজাতির অনেক মাছ উঠত। এখন আর সেসব মাছ ওঠে না। বাজার ভরা থাকে চাষের সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, মিরর কার্প, কমন কার্প, বিগহেড, থাইসরপুঁটি, থাই কৈ, থাই পাঙ্গাস, আফ্রিকান মাগুর, তেলাপিয়ায়। দেশী মাছ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বিল শুকিয়ে যাওয়া এবং জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারকে দায়ী করেন। কাজিপুর উপজেলার রাজনাথপুর গ্রামের মোঃ দানেছ আলী সরকার (১১২) সহ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানালেন, প্রায় ২০-২২ বছর আগে যমুনা নদীতে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। পাওয়া যেত ১৪ থেকে ১৫ কেজি ওজনের বোয়াল, পাঙ্গাস, বাঘাইড়, কাতল ও আইড় মাছ। এলাকার বিলে তারা জাল দিয়ে ৮ কেজি ওজনের কালবাউশ মাছ ধরেছেন। মৎস্য বিশেজ্ঞরা বলছেন, নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয় ও প্লাবন ভূমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। সরকারি উদ্যোগে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয় ও প্লাবন ভূমি পুনঃখননের মাধ্যমে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। অন্যথায় দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির তালিকায় ঠাঁই নেবে। কাজিপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান বলেন, বিভিন্ন কারণেই দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাবদা, বোয়াল, আইড়, শিং মাছের চাষ হচ্ছে। পাঙ্গাসের চাষ হচ্ছে বেশ ক’বছর আগে থেকেই। কৈ মাছেরও চাষ হচ্ছে। দেশী প্রজাতির মাছ রক্ষায় মৎস্য অধিদফতর প্রতি বছর মৎস্য মেলার আয়োজন করে আসছে বলে তিনি জানান।
    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,কাজিপুর ২০ মার্চ, ২০২০ ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 156 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    কাজিপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    13236819
    ০২ এপ্রিল, ২০২০ ০৪:০০ অপরাহ্ন