তাড়াশে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই কলেজ গেট ধসের অভিযোগ: হত্যা মামলা দায়ের
০৭ এপ্রিল, ২০২০ ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ দূর্ঘটনা:

    তাড়াশে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই কলেজ গেট ধসের অভিযোগ: হত্যা মামলা দায়ের
    ১৮ মার্চ, ২০২০ ০৬:০৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি:
    সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গুল্টা বাজার শহীদ এম এ মুনসুর আলী কলেজ গেট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী,রড ব্যবহার করাসহ অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই গেটটি ধসে পড়েছে। কলেজের প্রভাষকসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের অনিয়মের জন্যই বলি হলো তরতাজা চারজনের প্রাণ। স্থানীয়রা অবিলম্বে তদন্তপূর্বক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
    এদিকে গেট ধসে ঘটনায় তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ি গ্রামের মৃত জাহের উল্লাহর ছেলে তোজাম উদ্দিন নিহতের জামাতা আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই তাড়াশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গুল্টা বাজার শহীদ এম এ মুনসুর আলী কলেজের অধ্যক্ষ আসাদ উজ্জ জামান আসাদসহ আরো অজ্ঞাত ১০/১২জ কে আসামী করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফরিদ উদ্দিন। 
    জানা যায়, খ্রিস্টান মিশন ইতালিয়ান ফাদারের ২ লক্ষাধিক টাকা অনুদানে কলেজের গেটটি নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। শুধু পলেস্তারা করা বাদ রয়েছে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকালে হাট চলাকালীন গেটের উপরের অংশ লোকজনের ওপর ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান। আহত হয় অন্তত ৫জন।
    নিহতরা হলেন- তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ি গ্রামের মৃত জাহের উল্লাহর ছেলে তোজাম (৬৫), বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল গ্রামের মৃত সুলতান ইসলামের ছেলে রাশিদুল ইসলাম (২৬), সিংড়া উপজেলার শুকাস ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে আসিফ (১৪) ও শাহজাদপুর উপজেলার বাসিন্দা গরুর ব্যাপারী খাদেম আলী (৫০)।
    কলেজের প্রভাষকসহ স্থানীয়রা বলছেন, গেটের উপরের অংশটুকু শুধু ইট-সিমেন্ট দিয়ে কোনো রকমে গাঁথা হয়েছে। কোনো প্রকার রড দেওয়া হয়নি। এছাড়াও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে উপরের অংশটুকু তেমন মজবুত হয়নি। যে কারণে উপরের অংশ ভেঙে পড়েছে। নির্মাণ কাজে কর্তৃপক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই তরতাজা চারটি প্রাণ ঝরে গেছে। 
    কলেজের প্রভাষক আবুল বাশার জানান, কোনো পরিকল্পনা ছাড়া কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান আসাদ নিজেই ঠিকাদার হয়ে স্থানীয় মিস্ত্রি দিয়ে গেটটি নির্মাণ করছেন। নির্মাণ কাজে যথেষ্ট পরিমাণ রড দেওয়া হয়নি। নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত সকল সরঞ্জাম নিম্নমানের হওয়ায় উপরের অংশ ধসে পড়েছে। 
    তবে কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান আসাদ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, খ্রিস্টান মিশনের অনুদান আর তাদের অর্থে গেটটি নির্মাণ কাজ করছে। আমরা কর্তৃপক্ষ শুধু তদারকি করছি। তার ভাষ্যমতে সঠিক নিয়মে সঠিক পরিমাণ রড-সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। গেটটি মজবুত হয়েছে। কিন্তু কেন বা কী কারণে ধসে গেল তা বোধগম্য নয়। 

     

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ১৮ মার্চ, ২০২০ ০৬:০৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 538 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    13294732
    ০৭ এপ্রিল, ২০২০ ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন