কামারখন্দে আওয়ামী লীগ নেতারা আত্মসাত করলেন কলেজ ছাত্রী হয়রানির জরিমানার অর্থ
২২ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:২২ পূর্বাহ্ন


  

  • কামারখন্দ/ অপরাধ:

    কামারখন্দে আওয়ামী লীগ নেতারা আত্মসাত করলেন কলেজ ছাত্রী হয়রানির জরিমানার অর্থ
    ০৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:২১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    খাইরুল ইসলামঃ সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার সামাজিক শালিসের জরিমানার টাকা স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও মাতব্বরা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি তুলেছেন যৌন নিপীড়নের শিকার ওই কলেজছাত্রীর বাবা আকতার হোসেন ভুইয়া।
     
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় ওই ছাত্রী বাড়াকান্দি গ্রামের ছাত্তার মাস্টারের বাড়ীর সামনে পৌঁছলে বৃষ্টি নামে। এ সময় সাত্তার মাস্টারের বাড়ির গলিতে ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ও একই গ্রামের নূরুল ইসলাম আকন্দের ছেলে এক সন্তানের জনক জাহাঙ্গীর আলম (৩০) ভাতিজি বলে ডেকে তাকে সেখানে আশ্রয় নিতে বলেন। ছাত্রীটি সরল বিশ্বাসে তার ডাকে সাড়া দিয়ে সেখানে আশ্রয় নিলে জাহাঙ্গীর আলম জোরপূর্বক তাকে যৌননিপীড়ন করেন। এ ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরদিন বুধবার তার বাবা কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
     
    ইউএনও এর কাছে অভিযোগ দেয়ার পরে গত ১২ অক্টোবর ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কামারখন্দ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনায় এ মাস হলেও এখন পর্যন্ত মামলার একক আসামী পল্লিচিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
     
    এদিকে, যৌননিপীড়নের মামলা দায়েরের কিছুদিন পর থেকে বাদী পক্ষকে মামলাটি তুলে নিতে ও বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও  মাতব্বরা । এক পর্যায়ে তাদের চাপে ঘটনাটি মীমাংসায় রাজি হয় বাদী পক্ষ। পরে গত ২৮ অক্টোবর সোমবার স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার বাসায় একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ, গোপালপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন, বাড়াকান্দি গ্রামের আক্তার হোসেন, আনোয়ার হাজী, সাদেক আলী মুন্সিসহ উপস্থিত  মাতব্বরা বাদী পক্ষকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু ওই জরিমানার টাকার মধ্যে মাত্র ২৫হাজার টাকা দেয়া হয় মেয়ের বাবার হাতে। বাকী টাকা রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদসহ অন্যান্য  মাতব্বরা  ভাগবাটোয়ারা করে নেন।
     
    এ ব্যাপরে যৌননিপীড়নের শিকার কলেজ ছাত্রীর বাবা জানান, আমি গরীব মানুষ। আমার সাথে তো কোন মানুষ নেই। গ্রামের লোক যা বলে তাই শুনতে হয়। শালিস বৈঠকে ৯০ হাজার টাকা রায় করা হলেও আমাকে দেয়া হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা। রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৯০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। পুরো টাকাই মেয়ের বাবার হাতে দেয়া হয়েছে।
     
    এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা কামারখন্দ থানার এসআই ইয়ামিন হোসেন জানান, আসামী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আর ঘটনাটি মীমাংসার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।
    মোঃ খায়রুল ইসলাম ০৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:২১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 501 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    কামারখন্দ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12101169
    ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:২২ পূর্বাহ্ন