উল্লাপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির ৩০ লাখ টাকা যাচ্ছে শিয়র ক্যাশ এজেন্টদের পকেটে
২২ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:২৩ পূর্বাহ্ন


  

  • উল্লাপাড়া/ অন্যান্য:

    উল্লাপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির ৩০ লাখ টাকা যাচ্ছে শিয়র ক্যাশ এজেন্টদের পকেটে
    ০১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৫:৫৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    রায়হান আলীঃ উল্লাপাড়া রুপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশের মাধ্যমে মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বের করতে বাড়তি টাকা নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিধি অনূর্যায়ী উপবৃত্তির টাকা বের করতে আলাদা করে অর্থ নেয়ার নিয়ম না থাকলেও ব্যাংকটির এজেন্টরা তা মানছে না। তারা শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বের করার সময় ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা করে নিচ্ছেন। উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় অর্ধ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী মুঠোফোন থেকে উপবৃত্তির অর্থ বের করতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনছেন দীর্ঘদিন ধরে। এমন বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকরা উপজেলা শিক্ষা বিভাগকে অবগত করলেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

    জানা যায়,উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় শিক্ষার্থীদের সরকারের দেওয়া উপবৃত্তির টাকা মুঠোফোন থেকে বের করতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এ উপজেলার ২৮৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৫২৩১০ জন শিক্ষার্থীকে সরকার মুঠোফোনে উপবৃত্তি দিচ্ছে। রুপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশ নামে মোবাইল ব্যাংকে শিক্ষার্থীদের এ টাকা দেয়া হয়। ওই ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বিভাগের মধ্যে এ নিয়ে চুক্তি হয়েছে। এতে নিয়ম রয়েছে মুঠোফোন থেকে উপবৃত্তির টাকা বের করতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন প্রকার সার্ভিস চার্জ সহ বাড়তি টাকা নেয়া যাবে না। শিক্ষা বিভাগ থেকে উপবৃত্তির টাকা ব্যাংকটিতে দেয়ার সময় তার চার্জ দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যাংকটির স্থানীয় এজেন্টরা তা মানছে না। তারা উপবৃত্তির টাকা বের করার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০টাকা থেকে ৩০ টাকা করে বাড়তি চার্জ নিয়ে টাকা দিচ্ছেন। এই বাড়তি চার্জ না দিলে এজেন্টরা শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনের টাকা দিচ্ছেন না। এতে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়তি চার্জ দিয়ে টাকা বের করতে হচ্ছে।

    শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে উপবৃত্তির টাকা বের করতে বাড়তি চার্জ নেয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ ফরিদ উদ্দিন। তিনি বলেন এভাবে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টরা নিয়ম না মেনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে উপজেলা শিক্ষা বিভাগকে অবগত করেছি। দ্রুত এই অনিয়ম নৈরাজ্য বন্ধে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    ইতিমধ্যে এ উপজেলায় শিক্ষার্থীদের বিগত নয় মাসের উপবৃত্তির টাকা ছাড় দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রূপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশের মাধ্যমে এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের তালিকাভুক্ত মোবাইল নম্বরগুলোতে টাকা চলে আসছে।

    শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ৫০ টাকা হারে তিন মাস অন্তর জনপ্রতি ১৫০ টাকা এবং ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত মাসিক ১০০ টাকা হারে জনপ্রতি শিক্ষার্থীদের ৩০০ টাকা উপবৃত্তি দেয়া হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থী কে ৪ কিস্তিতে এই টাকা দেয়া হয়। এরমধ্যে উপবৃত্তির ৩ কিস্তির টাকা মুঠোফোনে পেয়েছে শিক্ষার্থীরা । উল্লাপাড়া উপজেলায় ২৫ অক্টোবর থেকে ২৮৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ছাড় দেয়া শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    সরকার শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত এই উপবৃত্তির টাকা দিচ্ছে। উপবৃত্তির টাকা পেতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাসে ৮৫% ভাগ স্কুলে উপস্থিত এবং বার্ষিক পরীক্ষায় উপস্থিত থাকতে হবে। প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে শিক্ষকরা জানায়। তবে এই উপবৃত্তির টাকা উঠাতে শিওর ক্যাশ এজেন্টেদের অনিয়মের কারনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপবৃত্তির মাধ্যমে শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করন প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ভেস্তে যেতে বসেছে।

    এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে উল্লাপাড়া উপজেলায় ২৮৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫২৩১০ জন উপবৃত্তির সুবিধা ভোগী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪ কিস্তিতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শিয়র ক্যাশের এজেন্টরা, এই টাকা নেওয়ার কোন নিয়ম নেই। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সরকারি অর্থের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে শিয়র ক্যাশের এজেন্টদের কাছে, এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে বিরূপ প্রভাব পরছে। 

    রুপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশ উল্লাপাড়ার এজেন্ট বিদ্যুৎ ষ্টোরের কর্ণধর বিদ্যুৎ কুমারের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তিনি জানান,বাড়তি টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। তার কোন এজেন্ট টাকা নিচ্ছে বলে তার জানা নেই।

    বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকতা এম.জি.মাহমুদ ইজদানীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান,উপবৃত্তির টাকা বের করতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ০১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৫:৫৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 516 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    উল্লাপাড়া অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12101173
    ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:২৩ পূর্বাহ্ন