বেলকুচিতে চিকিৎসক-রোগীর পাল্টাপাল্টি মারধর, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় শ্লীলতাহানীর অভিযোগ
২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন


  

   সর্বশেষ সংবাদঃ

  • বেলকুচি/ অপরাধ:

    বেলকুচিতে চিকিৎসক-রোগীর পাল্টাপাল্টি মারধর, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় শ্লীলতাহানীর অভিযোগ
    ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৫৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    জহুরুল ইসলাম: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে এক নারী রোগী চিকিৎসক আমির হামজার বিরুদ্ধে থানায় শ্লীলতাহানীর ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছে। সোমবার (২১ অক্টোবর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। বেলকুচি থানার সহকারি পুলিশ সুপার (বেলকুচি সার্কেল) রেজা সরোয়ার জানান, ভুক্তভোগী চিকিৎসক শাকিল হামজা মারধরের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি হাসপাতালে যাবো। তিনি অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ওই চিকিৎসক আমার কাছে কোনো অভিযোগ দেননি। বরং এক মহিলা ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানী, মারধর ও দুর্ব্যবহারের লিখিত অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে চিকিৎসক আমির হামজা মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, সোমবার ভোর থেকে আমি রোগী দেখছিলাম। আমার কাছে অন্তত ৬০-৭০ জন রোগীর সিরিয়াল জমা ছিল। এরই মাঝে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পুরাতন এক মহিলা রোগী টিকিট ছাড়াই রুমে ঢুকে পড়েন। রোগীর চাপ থাকায় আমি তাকে পরদিন আসার অনুরোধ করি। তারা চলে যাওয়ার ৫-৭ মিনিট পর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ শেখ কক্ষে এসে কোনো কথা না বলেই আমাকে মারতে শুরু করেন। তিনি আমার গলা টিপে ধরে টানতে টানতে বাইরে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান, এবং লাথি মারেন। শেষমেশ কোনোমতে আমি দৌড়ে জরুরি বিভাগে ঢুকে দরজা আটকে দেই। সেখানে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর ওষুধ কোম্পানির একটি গাড়িতে করে পালিয়ে আসি। এ ব্যাপারে বিকেলে থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি বলেন, আপনার সম্পর্কে আগেই নেগেটিভ কথা শুনেছি। অভিযোগ নেওয়ার কথা বললেও নানা টালবাহানায় আমার অভিযোগ নেয়নি থানাপুলিশ। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাসলিমা জান্নাত সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সময় আমি আমার কক্ষে রোগী দেখছিলাম। পরে জানতে পেরেছি চিকিৎসক শাকিলের সঙ্গে কোনো এক মহিলা রোগীর কথা কাটাকাটি হয়েছে। একপর্যায়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে এসে তার গায়ে হাত তোলেন, এবং তাকে এক ঘণ্টা বাথরুমে আটকে রাখেন। কোনো জনপ্রতিনিধিই একজন সরকারি চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলতে পারেন না। চিকিৎসক কোনো ভুল করলে তিনি আমার কাছে অভিযোগ করতে পারতেন। সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম এক নারী রোগীকে শ্লীলতাহানীর ঘটনা তিনি জানেননা বলে তিনি বলেন, ডাক্তারকে মারধরের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডলকে জানানো হয়েছে। তিনি আগামী বৃহস্পতিবার এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার বাবা অসুস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকায় আমি সেখানে ছিলাম। কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকিল হামজা একজন মহিলা রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের করেছে এমন কথা আমাকে জানায়। ওই রোগী আমাকে বিষয়টি জানালে আমি চিকিৎসকের রুমে যাই। দুর্ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে তার সঙ্গে আমার তর্কাতর্কি হয়। মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভুক্তভোগী নারী রোগী জানান, চিকিৎসক সাখিল হামজা রোগী দেখতে পারবেনা মর্মে জানাইয়া আমাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। আমাদের চলিয়া যাইতে বলে। আমরা বাহিরে না গেলে ওই চিকিৎসক চেয়ার থেকে উঠিয়া লাইনের দারিয়ে থাকা আমাকেসহ কয়েকজনকে এলোপাতারী চড়-থাপ্পর মারে। এক পর্যায়ে মাটিতে পড়েগেলে টানা হেচরা করে পরনের কাপর-চোপর এলোমেলো করে শ্লীলতাহানী করেছে। আমরা এর বিচার চাই।
    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৫৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 949 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    বেলকুচি অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12116084
    ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন