টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ত্রিশ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে রহস্যময়ী নারী ববিতা
১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন


  

  • জাতীয়/ অন্যান্য:

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ত্রিশ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে রহস্যময়ী নারী ববিতা
    ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:৪৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট টাঙ্গাইলঃ দাঁত নেই, তবুও মুচকি হাসিতে ববিতাকে মন্দ লাগে না। কিন্তু কি যেন মনে করে ক্ষণে ক্ষণে কাঁদে আবার পরক্ষণেই হাসে। তার এ হাসি-কান্না বড়ই রহস্যময়। এলাকায় সে ববিতা পাগুল্লি হিসেবে পরিচিত। চলচিত্রের ববিতার মতো দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা না থাকলেও এই ববিতার জনপ্রিয়তা রয়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে। বাবা মা’র দেওয়া নাম কি! এই ববিতা নামই বা কে দিয়েছে, তার সঠিক তথ্য কেউ জানে না। প্রায় ত্রিশ বছর ধরে উপজেলার কলেজ মোড় থেকে বাসস্ট্যন্ডে তাকে দিন রাত ঘুড়ে বেড়াতে দেখা যায়। তার প্রকৃত বয়স কত, কোথা থেকে এসেছে, বাড়ি কোথায় তা সবার অজানা। ত্রিশ বছর আগে তার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে। রাতের বেলায় ঘুমানোর জন্য সে বেছে নিয়েছে নির্মাণ সংগঠনের বাড়ান্দা।

    ববিতা সবার অতি পরিচিত মুখ। দিন মুজুর, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তি সবাই ববিতাকে আদর করে নাম ধরে ডাকে। কখনো ডাকে সাড়া দেয় আবার কখনো দেয় না। সবার দেওয়া খাবারও সে খায়না। আবার যাকে ভালো লাগবে তার কাছ থেকে এটা ওটা চেয়ে খায়। খাবার হোটেল গুলোতে তার জন্য সব সময় দরজা খোলা থাকে। কখনো খাবার খেতে গেলে কি যে আদর আপ্যায়ন তা আর বলে শেষ করা যায় না।

    কারো সাথে কথা তেমন একটা বলেন না ববিতা। আর যাও দু’ একটা বলে তা বোঝা যায় না। তবে কি যেন মনে করে ক্ষণে ক্ষণে কাঁদে আবার পরক্ষণেই হাসে। সড়কের দু’ধারের দোকানদার গুলো ববিতাকে অনেক ভালোবাসে। কারো দোকানে গেলে দোকান মালিক তার চেয়ার ছেড়ে দেয় বসার জন্য। যতক্ষণ মন চায় দোকানে বসে থাকে। এর ভিতরে চলে আপ্যায়ন। চা এবং পান এ দুটোই সে বেশি ভালেবাসে। সবাই বলে ববিতা যেদিন দোকানে আসে তাদের বিক্রি নাকি বেড়ে যায়। তাকে সব সময় দেখেন এবং জানেন স্থানীয় মোহাম্মদ আলী জানান, ত্রিশ বছর ধরে সে এই এলাকায় আছে। কোনো দিন তাকে গোসল করতে দেখিনি। অথচ তার কাছে গিয়ে বসলে শরীর থেকে কোনো গন্ধ আসেনা। সে কোনো দিন অসুস্থও হয় না। ত্রিশ বছর আগে তার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে।

    কলেজ মোড় এলাকার জেমি ফার্মেসির মালিক জামাল হোসেন বলেন, তার ভিতরে মনে হয় অলৌকিক কিছু আছে। আমার দোকানের কর্মচারী একদিন চুরি করেছিল যা আমি নিজেও জানতাম না। কোথা থেকে যেন ববিতা এসে সেই কর্মচারীকে জুতা দিয়ে পিটানো শুরু করলো। পরে চুরির বিষয়টি জানতে পারি। ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় ত্রিশ বছর ধরে আমি তাকে এ এলাকায় দেখে আসতেছি। তার ভিতরে অলৌকিক কিছু থাকতে পারে। দোকানদাররা আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাকে দোকানে বসায় এবং সেবাযত্ন করে। আবার সবার দেওয়া খাবার সে খায় না যাকে ভালো লাগে তার কাছ থেকে চেয়ে খায়।

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, টাংগাইল ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:৪৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 194 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12051982
    ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন