তাড়াশে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘর দেওয়ার নামে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ
১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:০৭ অপরাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ অপরাধ:

    তাড়াশে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘর দেওয়ার নামে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ
    ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:০৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    এম এ মাজিদ  :‘জায়গা আছে ঘর নাই’ সরকার এসব সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের কে ঘর নির্মাণ করে দিবে -এ প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাই নগর  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বরারা হত দরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করে আদায় করেছে। এরমধ্যে প্রায় দুই শতাধিক প্রান্তিক ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকজন ও রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে এক শ জন করে তালিকা করে তাদের কাছ থেকে এ অর্থ আদায় করা হয়েছে। সে হিসেবে ৯ টি ওয়ার্ড ও ৩ টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড থেকে ১হাজার ১শ জনের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন করার অভিযোগ উঠেছে। অথচ ওই ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ কোন প্রকার বরাদ্ধ নেই মর্মে তাড়াশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা( পিআইও) অফিস নিশ্চিত করেছে।


    ভূক্তভোগীদের অভিযোগ ও সরেজমিনে মাধাই নগর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাধাই নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মির্জা ও  ১২ জন ইউপি সদস্য মিলে প্রায় এক বছর আগে এলাকায় প্রচার চালায় সরকার ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র মানুষদের বিনা টাকায় ঘর করে দিবে। তারা উদাহরণ  হিসেবে তুলে ধরেন একই উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন ও পাশ্ববর্তী রায়গঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ইতোপূর্বে বাস্তবায়িত  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২  সমূহ। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। এ সময় তারা প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে এক শ জন করে তালিকা তৈরি করে তাদের কাছ থেকে এ অর্থ আদায় করে। এসব হত দরিদ্র মানুষদের অনেকেই টাকা দিলেই মিলবে ঘর এ আশায় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরের অধিক সময় চলে গেলেও চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যগণ প্রকল্প পাস হচ্ছে বলে আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যানকেও প্রায়ই ঢাকায় যেতে দেখা যায় প্রকল্পের তদবির করতে।


     মাধাইনগর  ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সরাপপুর, ছোট ঘোনার ও ৭ নং ওয়ার্ডের মাধাইনগর গ্রামে গিয়ে কথা হয় শতাধিক ভূক্তভোগী প্রতারিত লোকজনের সাথে।
    সরাপপুর গ্রামের কৃষি শ্রমিক দেলবার হোসেন বলেন, তার ওয়ার্ডের হায়দার আলী মেম্বর কে ঘরের জন্য এক বছর আগে সে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু আজো সে ঘর তার মেলেনি। একই কথা জানালেন,তারা মন্ডল(৪৫), আব্দুল হামিদ মন্ডল(৪০)সহ ১৭জন ভূক্তভোগী।


    পার্শ্ববর্তী মাধাইনগর গ্রামের  ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক সঞ্চনা সিং (৩০), বিমল সিং (২৫),নব কুমার বসাক (৪৫), গোপেন্দ্রনাথ বসাক (৩৫), বিপুল বসাক (৪০) পলাশ উঁরাও (৩৫) সহ প্রায় ৪০ জন ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকজন জানান, তারা কেউ ১৫ হাজার,কেউ ২০ হাজার টাকা করে দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সূদে ঋণ নিয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান ও মহিলা সদস্য বুলবুলি খাতুন কে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তারাও  এক বছর যাবৎ কোন প্রকার ঘর পাননি। এ চিত্র পুরো ইউনিয়ন জুড়েই।


    এ প্রসঙ্গে কথা হয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান,হায়দার আলী ও মহিলা সদস্য বুলবুলি খাতুনের সাথে। তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শুধু আমরা নয় সব সদস্যই টাকা তুলেছেন। এবং তারা সমুদয় টাকাই চেয়ারম্যান মো: আবু হাসান মির্জা কে দিয়েছেন প্রকল্পের জন্য।


    চেয়ারম্যান মো: আবু হাসান মির্জার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমি আপনাদের সাথে বসবো। লেখালেখি করলে প্রকল্পটি পাওয়া যাবে না।


    তাড়াশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুর মামুন বলেন মোখিক ভাবে অভিযোগ শুনেছি লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয়  ব্যাবস্তা নেয়া হবে ।
     এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মো: ওবায়দুল্লাহ বলেন, মাধাইনগর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ ধরণের প্রকল্পের কোন প্রকার অস্তিত্ব নেই। তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

     

    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:০৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 630 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11690004
    ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:০৭ অপরাহ্ন