মনের ফাগুণ
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:২৪ অপরাহ্ন


  

  • কাজিপুর/ অন্যান্য:

    মনের ফাগুণ
    ৩১ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:০৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আবদুল জলিলঃ প্রথম বর্ষের রেজাল্ট শেষে সবেমাত্র দ্বিতীয়বর্ষের ক্লাসের আমেজ অনুভব করছি। হঠাৎ ক্লসে নোর্টিস এলো ‘আগামী ২২ ডিসেম্বর কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বেলা ২ ঘটিকায় কলেজ অডিটোরিয়ামে উপস্থিত হবার জন্য বলা হলো।’ নোর্টিশ শুনে আমার মনে মধ্যে ঢিপঢিপ শব্দ হতে লাগলো। একটু আধটু গাইবার অভ্যেস আমার সেই আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিল। কিন্তু কলেজ বলে কথা। যথাসময়ে হলঘরে ঢুকে পড়লাম। নাম রেজিস্ট্রেশন চলছে। নিজের গাইবার ইচ্ছেটা আমার এক বান্ধবীর মাধ্যমে পরিচালককে জানালাম। তখন থেকেই গা একটু করে ঘামছে। হলভর্তি শিক্ষার্থী। না জানি নাম ডাকলে কি হয়। ঠিকমতো গাইতে পারবো তো! নাম তালিকাভূক্তির কিছুক্ষণ পরেই হারমোনিয়ামে সুর বাজালেন ফর্সামতো একজন। তিনি আমাদের সবার বিকাশদা; চতুর্থ বর্ষের বাণিজ্য বিভাগের মেধাবী ছেলে। বেশি কথা বলতে যার জুড়ি নেই। একবার ডাক্তারের পরামর্শে তাকে তিনমাস কথা না বলে কাটাতে হয়েছে। এরপর লম্বা ছিপছিপে শ্যামবর্ণের এক ছেলে তবলায় সংগত করার জন্যে মঞ্চে এলো। ছেলেটিকে ঠিকমতো চিনতে পারলাম না। যথাসময়ে শুরু হলো গান। কয়েকজন গাইবার পরেই এলো আমার পালা। দ্বিধা থরোথরো মনে চৌকি দিয়ে বানানো মঞ্চে উঠলাম। প্রাণ উজাড় করে গাইলাম। গান শেষে যন্ত্রচালিতের মতো মঞ্চ থেকে নেমে এলাম। সমস্ত রিহার্সেল রুম তখন করতালিতে ফেটে পড়ছে। বুঝলাম ভালই গেয়েছি। এরপর নিজ আসনে এসে বসলাম রিহার্সেল চলছে। মনের মধ্যে তখনো ৮ মাত্রার কাহারবা তাল বেজে চলেছে। প্রথম দিনে ট্রায়াল শেষে বাসায় চলে যাই। রিকসায় চেপে তখনো ভাবছি কিছুক্ষণ আগের স্মৃতি। ভাবতে পারিনি জীবনের কোন মোড় আমাকে ঘোরাতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় দিন নিয়ম করে ট্রায়াল শেষে ফর্সামতো বিকাশদার সাথে আমার আলাপ হয়। শুরুটা অবশ্য তিনিই করেন। পিছন থেকে আমাকে ডাক দেন তিনি। বিকাশদা বললেন- তোমার নাম তমা, তাইনা? -হ্যা -তোমাদের বাসা -ভবানীপুর, বড় মসজিদের বা দিকটায়। -তোমার সাথে কি আগে কোথাও আমার পরিচয় হয়েছিল? হঠাৎ মনে পড়লো একদিনের অপ্রত্যাশিত এক ঘটনার কথা। বললাম- হ্যা, বেতন দিতে গিয়ে কোন কারণে আপনার বকা খেয়েছিলাম। -মনে রেখেছো দেখছি। -রাখবো না? ওমন শাসনের সুরে যা বলেছিলেন তা কি ভোলা যায়! এসময় দুজনেই হেসে উঠলাম। আমার কিছু লজ্জাও পাচ্ছিলো। রিকসা ছেড়ে দিয়ে বিকাশদার সাথে কমনরূপের পাশ দিয়ে এগিয়ে যেতেই সেই ছিপছিপে তবলা বাজানো ছেলেটির সাথে দেখা হয়। ওকে দেখেই গতকালের কাহারবা তাল আবার যেন বাজতে লাগলো। সত্যি অর্থেই ও অনেক ভালো তবলা বাজিয়েছিলো আমার গানে। বিকাশদাকে দেখে ও সালাম দিলো। বিকাশদা ওর সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। চালচলন ও কথাবার্তায় ওকে এখনও স্কুল পড়–য়া ছেলে বলেই মনে হয়। শুনলাম ওর নাম সৌরিন। আমাদের সাথে পড়ে। বাণিজ্য বিভাগে। আমরা উচ্চ মাধ্যমিকে সবমিলে প্রায় ৮শ শিক্ষার্থী তিন বিভাগে পড়ি। একারণে বাঙলা, ইংরেজি কমন ক্লাসও আলাদাভাবে হয়। ফলে সবার সাথে পরিচয় নেই। দু’চারটে কথা বলে সেদিনের মতো চলে যাই। এরপর নির্দিষ্ট দিনে শুরু হলো অনুষ্ঠান। বিকাশদার অনুপ্রেরণা আর সৌরিনের চমৎকার বাজনায় গানটি ভালই গাইলাম। প্রথম স্থানের জয়ের মালাটা আমার গলাতেই জড়ালাম। সে অনুষ্ঠানে সৌরিনও নজরুল সঙ্গীতে প্রথম হয়। তারপর থেকে বিকাশদা আর সৌরিনের সাথে আমার সখ্যতা, মেলামেশা অনেক বেড়ে গেল। ওরা দুজনেই আমার বাসায় যেত। আমার আব্বার সাথে বসে ওরা সংস্কৃতির নানা বিষয়ে আলোচনা করতো। আমার আব্বা সেসময় ল’ প্রাকটিসের পাশাপাশি রেডিওতে নাটক করতেন। নিজেকে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বাসনায় ওদের সাথে আমার সম্পর্কটা অনেক গভীর থেকে গভীরতর হলো। এভাবে কখন যে সৌরিন আর আমি নিজেদের তুমি থেকে তুই সম্বোধনে নেমে আনি তা বুঝতেই পারিনি। মনের ফাগুণ পাখিটি নতুন করে স্বপ্ন দেখতে লাগলো। ্িবকাশদা এবং সৌরিনের বাড়ি ছিল পাশাপাশি গ্রামে। প্রতিটি বিষয়েই সৌরিন বিকাশদার পরামর্শ মেনে নিতো। বিকাশদার অনুপ্রেরণায় সৌরিন নিজেকে সব বিষয়েই প্রথম হবার বাসনায় মেতে ওঠে। অবশ্য অনেক ক্ষেত্রে সৌরিনের বুদ্ধিদীপ্ত কথা বিকাশদার মেনে না নিয়ে উপায় থাকতো না। কিন্তু এর মাত্রাটা যখন দিনে দিনে বেড়ে যেতে লাগলো তখন বিকাশদা সৌরিনকে আগের মতো পরামর্শ দেয়া কমিয়ে দেয়। বিকাশদার একটা স্বভাব ছিল সে নিজেই সব বিষয়ে মতামত দিবে আর সবাই সেটা মেনে নেবে। কিন্তু দিন গড়াতেই সৌরিন তার বুদ্ধিমত্তায় বিকাশদাকে হারিয়ে দেয়। তারপরেও দুজনের মধ্যেকার সম্পর্কটি বেশ ছিল। দেখতে দেখতে দ্বিতীয় বর্ষের টেস্ট পরীক্ষা ঘনিয়ে আসে। এর মধ্যে সৌরিন ওর ডিপার্টমেন্টের পরীক্ষাগুলোতে সব বিষয়েই সর্বোচ্চ নম্বর পেতে থাকে। এসময় সৌরিনের কাছে প্রাইভেট পড়তে আসে ওরই কয়েকজন ক্লাসমেট। ওদের যুক্তি হলো সৌরিনের কাছে ওরা মন খুলে ভুলগুলো বলতে পারবে, শিখতে পারবে। আমিও মাঝে মধ্যে ওদের প্রাইভেটে যাই। নিজেও সৌরিনের কাছ থেকে ইংরেজিটা দেখে নিতাম। একদিন সৌরিনের কাছে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে নিয়ে আসে ওর এক বান্ধবী। মেয়েটির নাম রমা, সৌরিনের কাছে পড়ে মিথিলার চাচাতো বোন। শ্যামলা গড়ন, সদা হাসিমুখ। লম্বা চুল পিঠ ছেড়ে মাজায় এসে পড়েছে। মিথিলা পরিচয় করিয়ে দেয় রমাকে। সৌরিনকে বলে- -তোমার মতো আমার বোনটিও গানে, কবিতায়, খেলাধুলায় এবং রেজাল্টে অনেক ভালো। সেদিনের মতো পড়াশেষে চলে আসি। তারপর একদিন আবার গেছি সৌরিনের প্রাইভেটে। দেখি রমাও পড়ছে। যদিও ও প্রথম বর্ষের ছাত্রী। কিন্তু ইংরেজি গ্রামার আমাদের সাথেই পড়ছে এবং আমাদের সবার চেয়ে ও ভাল করছে। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম সৌরিন আর রমার হাতের লেখা একই রকম। কোনটা কার আমরা আলাদা করতে পারছিলাম না। রমার বাবা খুলনায় বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি করে। আর রমা গ্রামের বাড়ির চাচার বাসায় থেকে পড়ছে। কেটে যায় বেশ কিছুদিন। সৌরিনের প্রাইভেট পড়ানোটা চলছেই। একদিন আমিও যাই। পড়াশেষে সৌরিন আমাকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে রমার বিষয়ে জানতে চায়। রমার লেখা একটি চিঠি আমার হাতে দেয়। ইংরেজিতে লেখা চিঠিটার সারমর্ম হলো সৌরিনের সহায়তা ও সাহচর্যে রমা অনেকদূর এগিয়ে যেতে চায়। সেদিন চিঠির বিষয়ে সৌরিনের সাথে আর কোন আলাপ করিনি। বাড়ি এসে আমার মনের অস্থিরতা বেড়ে যায়। বুঝতে পারিনি একটা চিঠি আমাকে এমন অস্থির করছে কেন? রাতে পড়তে বসে অনেক করে ভাবলাম। কিন্তু কেন জানি অস্থিরতা আর নিজের অনুভূতির বিষয়ে সৌরিন বা রমা কাউকেই কিছু বলতে পারছি না। এরও কয়েকদিন পর কলেজে শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে কবিতা আবৃত্তি ছিল। মজার বিষয় হচ্ছে আমি যে কবিতাটি আবৃত্তির জন্যে মনস্থির করেছি সেইটিই সৌরিন ও পরে রমাও প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। যাহোক আমি ওদের দুজনেরটা জেনে নিজের কথাটি ভিতরেই রাখলাম। অনুষ্ঠানের শেষে ফলাফল ঘোষণায় দেখা গেল সৌরিন প্রথম এবং রমা দ্বিতীয় হয়েছে। আমি ইচ্ছে করেই কেন ওদের জন্যে নিজের আবৃত্তির আকাক্সক্ষাকে দমিয়ে রাখলাম বুঝতে পারলাম না। কেমন যেন ওদের দুজনের প্রতি আমার আলাদা টান অনুভূত হয়। সৌরিনকে কেউ সমালোচনা করলে আমি সহ্য করতে পারিনা। তবে কি আমি সৌরিনকে ভালোবাসি? তাহলে কেন সেটা বলতে পারছি না। কেন রমাকেও ভালোবাসি.... একদিন রমা আমাকে সৌরিন সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন করে। সৌরিন কি খেতে পছন্দ করে, কি ভালোবাসে, প্রিয় রং কি... নানান কিছু। আমি বুঝতে পারি ও সৌরিনকে ভালোবাসে। আমি কেমন যেন যন্ত্রচালিতের মতো সেদিন ওর সাথে আর কথা না বাড়িয়ে চলে যাই। রাতে অনেক ভাবনা এসে আমাকে ভাবিয়ে যায়। তবে কি সৌরিন-রমার সম্পর্ক আমি মেনে নিলাম? এরপর ওদের দুজনের সেতু বন্ধুনের মূল পথটি আমারই করে দিতে হয়। ওরা নিয়মিত দুজন পত্র বিনিময় করে। আমি দুজনের কাছে তা পৌঁছে দেই। কয়েকদিন আমি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কলেজে যাইনি। হঠাৎ একদিন সৌরিন আমাদের বাসায় আসে। ওর মুখাবয়ব আমাকে অনেককিছু বলে দিচ্ছে। তবুও ওকে জিজ্ঞেস করতেই জানলাম সব। চাচাত বোনেরা এখন রমাকে হিংসে করে। রমা ভালো ছাত্রী, সৌরিনের সাথে ওর সখ্যতা কোনটিই ওদের ভালো লাগছেনা। কারণটি অবশ্য পরে জানতে পেরেছি ওদের একজন সৌরিনকে চিঠি লিখে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। তাতেই এখন ওরা সৌরিনের বংশ মর্যাদা, আভিজাত্যহীনতা এসব কিছুর বিচার করে রমাকে এ পথ থেকে সরে আসতে চাপ দিচ্ছে। এক পর্যায়ে এ কথা রমার পরিবারকে চিঠিতে জানিয়ে দেয়। বেশ কিছুদিন হলো সৌরিনের কাছে রমা বা ওর চাচাত বোনেরা আর পড়তে আসে না। সরাসরি দেখা করার সুযোগও নেই। সার্বক্ষণিক রমাকে পাহারায় রাখে ওর বোনেরা। অনেক কষ্টে লুকিয়ে রমা একদিন আমার কাছে এসে ঘটনা খুলে বলে সৌরিনকে লেখা একটি চিঠি আমাকে দেয়। আমি ওই চিঠির সাথে নিজেও সৌরিনকে একটি চিঠি লিখি। পরদিন কলেজে এসে ওকে দেই। আমার চিঠির বিষয় ছিলো ওদের দুজনের মধুময় সম্পর্কটি যেন টিকে থাকে। আমি ওদের সাথে আছি। আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়। সৌরিনের সাজেশন এবং অনুপ্রেরণায় আমিও পার হই। সৌরিন প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়। পরীক্ষার পরের কয়েকমাসে আমি সৌরিনের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে মেশার সুযোগ পাই। ওর ব্যক্তিত্ব আমাকে দারুনভাবে টানে। ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা দুটোই ওর জন্যে আমার মনের মধ্যে অনেক জমে যায়। একদিন সৌরিন ও রমা দুজনেই লুকিয়ে আমাদের বাসায় আসে। সৌরিন আমার মাকে পরিচয়ের পর থেকেই মা বলে ডাকে। মা নিজ হাতে রান্না করে ওদের খাইয়ে দেয়। সারাদিন আমরা তিনজন অনেক আলাপ, গান, আবৃত্তি করে কাটালাম। যাবার সময় ওদের দুজনই দুদিক থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এদিকে ওদের দুজনের স্পর্শে আর চোখের জলে আমি নিজেকে নতুন করে আবিস্কার করলাম। অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করে ওদের বিদায় দিলাম। প্রথমে রমা চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে সৌরিন চলে যেতে চাইলেই ওর চোখের দিকে তাকিয়ে কখন যে আমার চোখে পানি চলে এসেছে বুঝিনি। রমার ফাইনাল পরীক্ষা শেষে দিকে। পরীক্ষা শেষেই ও চলে যাবে খুলনায়। এসময় সৌরিন বিকাশদার সাহায্য কামনা করে। কিন্তু উনি ওকে কোন সাহায্য না করে সোজা কেটে পড়তে বলেন। অবশেষে সৌরিন একদিন আবার আমাদের বাসায় আসে। রমার সাথে একটা নৈতিক বন্ধন তৈরি করে রাখতে চায়। এতে আমার সহায়তা কামনা করে। আমি নিশ্চুপ থাকলে ও আমাকে জড়িয়ে শিশুর মতো কেঁদে ফেলে। সৌরিনের এমন রূপ আমি আগে দেখিনি। ভাবতেও পারিনি ও এতটাই সরল। এভাবে কিছুক্ষণ কেটে যায়। নিজেকে সংবরণ করে ওকে পাশে বসাই। মনে হলো সৌরিনের মতো পুরুষেরা যদি জীবনে ভালোবাসা না পায় তবে আমাদের নারী হয়ে জন্মানোর সার্থকথা কোথায়? -তুই এখন কি করতে চাস? -রমাকে একটা বন্ধনে বাধতে চাই। যাতে আইনতগতভাবে ও আমার হয়। কিভাবে? সে তুই ভাবিস না। দোয়া করিস শুধু। সৌরিন চলে যায়। আমি মনে মনে ভাবলাম তাই যেন হয়। এরপর প্রায় বছরখানেক সময় পার হয়েছে। পূজোর ছুটিতে আমরা গ্রামের বাড়িতে গেছি। ওদের দুজনের কথা তেমন আর জানতে পারিনি। নিজেকেও আর কারো সাথে সখ্যতায় বাধিনি। একদিন সৌরিন আমাদের বাড়িতে আসে। একি! এই কয়েকমাসে ও এত পাল্টে গেছে। মনে হলো একটা ঝড় ওকে তছনছ করে দিয়ে গেছে। ওর পাশে গিয়ে বসলাম। ওর কাছ থেকে সবকিছুই জানলাম। এও জানলাম রমা এখন স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করে। দেশের বাড়িতে বাবা-মার সাথেই আছে। সৌরিন বেশকিছু চিঠি আমার হাতে দিলো। রমার সেই লেখাতে বারে বারে একই কথা ‘তুমি আমাকে মুক্তি দাও।’ কিসের মুক্তি চায় রমা? তবে কি ও অনেক পাল্টে গেছে? সৌরিন জানায়, বেশ ক’মাস হলো রমা আর যোগাযোগ রাখেনি। কোন উত্তর দেয়নি পত্রের। শেষ চিঠিতে রমার জন্যে পাত্র খোঁজা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছিল। সব শুনে আমি বিমূঢ় হয়ে গেলাম। রমা কি করে এমন ছেলেকে অস্বীকার করে! সৌরিনের হাতটা নিজের হাতে শক্ত করে ধরি। রাগ হচ্ছে ওর উপর। কেন জোর করে রমাকে ধরে আনছেনা। ওকে আর কিছু বলতে পারিনি। চার চোখ কিছুক্ষণ স্থির হয়ে থাকে। হঠাৎ হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বেরিয়ে যায় সৌরিন। আমি কি করবো ভেবে না পেয়ে বসেই থাকি। মুহূর্তেই মনের সেই ফাগুন পাখিটির ডাক শুনতে পেলাম। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। দ্রুত বেরিয়ে আসি সৌরিনকে ফেরাতে। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়েছে; মিশে গেছে অগণিত জনতার ভিড়ে...
    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,কাজিপুর ৩১ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:০৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 292 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    কাজিপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11347146
    ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:২৪ অপরাহ্ন