টাঙ্গাইলে চলন্তবাসে ধর্ষনের পর হত্যা রুপা হত্যার দু‘বছর:নিরবে কাদঁছেন মা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৩:৪৪ অপরাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ আইন আদালত:

    টাঙ্গাইলে চলন্তবাসে ধর্ষনের পর হত্যা রুপা হত্যার দু‘বছর:নিরবে কাদঁছেন মা
    ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ১২:১৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি:
    টাঙ্গাইলে চলন্তবাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে ধর্ষনের পর হত্যার দু‘বছর পুর্ণ হলো (২৫) আগষ্ট রবিবার। কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌরসভা এলাকার  আসানবাড়ী গ্রামের মৃত জেলহক প্রামাণিকের মেয়ে।
    কিন্তু নির্মম এ হত্যাকান্ডের বিচারের বাণী আজও নীরবে-নিভৃতে কাঁদছে। জীবদ্দশায় মেয়ের হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে যেতে পারবেন, সে আশা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছেন রূপার মা হাসনা হেনা বেগম। তার ভরষা এখন সৃষ্টি কর্তা। রূপার মা হাসনা হেনার বয়স এখন ৫৭। মেয়ে চলে যাওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তার রেখে যাওয়া স্মৃতি প্রতিনিয়ত পোড়াচ্ছে তাকে। কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না মেয়েকে।
    কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসনা হেনা বলেন, 'আমরা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছিলাম, নিম্ন আদালতে তা পেয়েও ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে মামলাটি ঝুলে আছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার অবসান চাই। দ্রুততম সময়ে আপিলের রায় হওয়ার পর আমার জীবদ্দশায় অভিযুক্তদের শাস্তি দেখে যেতে চাই।'
    চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার বিচার দুই বছরেও শেষ হয়নি। বিগত ১৯ মাস ধরে উচ্চ আদালতে ঝুলে আছে রূপা হত্যা মামলার আপিল শুনানি। এ মামলায় ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া চার আসামির মৃত্যুদন্ড ও একজনের সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। এ ছাড়া ছোঁয়া পরিবহনের সেই বাসটি ক্ষতিপূরণ হিসেবে রূপার পরিবারকে দেওয়ারও আদেশ দেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ময়মনসিংহের ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর, হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীরকে মৃত্যু এবং সুপারভাইজার সফর আলীকে সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ডের সঙ্গে ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।
    মামলার বাদী রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান জানান, দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করে। এরপর গত ১৯ মাসেও চাঞ্চল্যকর এ মামলায় শুনানি শুরু হয়নি। তিনি বলেন, 'নিম্ন আদালতে দ্রুততম সময়ে মামলার রায় ঘোষণায় আমরা সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। কিন্তু উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষের আপিলের পর মামলাটি গত দেড় বছর ঝুলে থাকায় হতাশ হয়েছি।
    হাফিজুর রহমান আরো জানান, ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছোঁয়া পরিবহনের বাসটি রূপার পরিবারকে দেওয়ার যে আদেশ আদালত দিয়েছেন, তাও কার্যকর করা হয়নি। তিনি বলেন, বিচারের সর্বশেষ পর্যায়ে যেতে কতদিন সময় লাগবে, তা আমাদের জানা নেই। ততদিনে ওই বাসটি পেলেও হয়তো তা ভাংড়ি হিসেবে বিক্রি করতে হবে। এতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশাও ক্ষীণ।

    প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে বাসের চালক-হেলপারসহ অন্য সহযোগীরা। এরপর টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রূপার মরদেহ ফেলে যায় তারা। ওই রাতেই মধুপুর থানা পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় নারী হিসেবে রূপার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। পরের দিন বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছোট বোন রূপার লাশ শনাক্ত করেন। ঘটনার দু'দিন পর ২৮ আগস্ট ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কে চলাচলকারী ছোঁয়া পরিবহনের বাসের হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর এবং চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে আসামিরা নিম্ন আদালতে দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছে।

     

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ১২:১৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 406 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11406375
    ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৩:৪৪ অপরাহ্ন