চাঁদপুরে মেঘনার ভাঙন রক্ষায় কাজ শুরু
২১ আগস্ট, ২০১৯ ১২:৫৬ অপরাহ্ন


  

   সর্বশেষ সংবাদঃ

  • জাতীয়/ অন্যান্য:

    চাঁদপুরে মেঘনার ভাঙন রক্ষায় কাজ শুরু
    ০৪ আগস্ট, ২০১৯ ১২:২৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    গতকাল শনিবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে আজ রবিবার ভোর সাড়ে ৫টা। এর মধ্যে মেঘনার ভাঙনে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার হরিসভা ও তার আশপাশের ৫০টি বসতবাড়ি। এদিকে, ভাঙন রক্ষায় মধ্যরাত থেকে বালিভর্তি বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে।

    চাঁদপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বায়হান বলেন, এরইমধ্যে প্রায় ২০০ মিটার শহররক্ষা বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে বালিভর্তি ১০ হাজার জিওব্যাগ ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভাঙন রক্ষায় আরো কী কী কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া যায়-  তা তদারকি করতে কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. জহিরউদ্দিন ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

    চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটোয়ারী বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি চাঁদপুরে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করেছেন। এ ছাড়া সরকারিভাবে যা যা করা দরকার সেই কাজও শুরু করা হয়েছে।

    এদিকে, হরিসভা এলাকার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পৌরসভার পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে আশপাশের অনেক পরিবার তাদের প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছেন। 

    এর আগে গতকাল শনিবার রাতে হঠাৎ করে মেঘনার ভাঙন শরু হয়  চাঁদপুরে। শহরের পুরানবাজারের হরিসভা এলাকায় শহররক্ষা বাঁধে শুরু হয় ব্যাপক ভাঙন। এতে নদীতীর সংরক্ষণের বাঁধসহ বেশকিছু বসতবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে যায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া ভাঙনের এই তাণ্ডব চলেছে ভোররাত পর্যন্ত। এমন পরিস্থিতিতে প্রাচীন সাতটি মন্দির নিয়ে গঠিত হরিসভাসহ আশপাশের জনপদ। ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভাবে বালিভর্তি জিও ব্যাগ এবং সিসিব্লক ফেলতে শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    চাঁদপুর শহরে মেঘনাপাড়ে নদীতীর সংরক্ষণের কারণে গত কয়েক বছর ধরে আশপাশের এলাকা বেশ নিরাপদ। ফলে মূল ভূখণ্ডে নদীভাঙন অনেকটা বন্ধ ছিল। এতে স্বস্তিতে ছিল নদীপাড়ের পুরানবাজারের বাসিন্দারা। কিন্তু তাদের সেই সুখ বেশিদিন টেকেনি। সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং একাধিক মন্দির নিয়ে হরিসভা এলাকায় শনিবার রাত থেকে ফের নদীভাঙন শুরু হয়। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় তিন শ মিটার এলাকা মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় মরণ সাহা, আদি সাহা, দীপক দে, সম্ভু দে'রসহ বেশকিছু বসতবাড়ি, দোকানপাট নদীতে তলিয়ে যায়। এখন প্রচণ্ড হুমকির মুখে সাতটি মন্দির নিয়ে হরিসভা এবং তার আশপাশের এলাকা। এ সময় আশপাশের অনেকেই নিরাপদে আশ্রয় চলে যান।

    মজিবুর রহমান, কার্তিক সাহাসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আগাম কোনো প্রস্তুতি না নেওয়ার কারণে তারা এমন ভাঙনের শিকার হয়েছে। তারা বলেন, এবারের বর্ষার শুরুতে ভাঙনের এমন আশঙ্কার কথা স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও হরিসভার মন্দির কমিটির প্রধান সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে গোটা হরিসভা এলাকা মেঘনাগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। জরুরিভিত্তিতে ভাঙন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। 

    এদিকে, হঠাৎ ভয়াবহ ভাঙনের সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র সিদ্দিকুর রহমান ঢালী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন পাটোয়ারীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং  মন্দিরের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ভাঙন রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে বালিভর্তি জিও ব্যাগ এবং সিসিব্লক ফেলার কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে ভাঙন রক্ষায় সবধরণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ভাঙন রক্ষায় তাদের সবধরণের প্রস্তুতি রয়েছে।

    ২০১০ ও ২০১১ সালে এক কোটি টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকায় মেঘনা নদীপাড়ে নির্মাণ করা হয় তীর রক্ষা বাঁধ।

    নিউজরুম ০৪ আগস্ট, ২০১৯ ১২:২৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 68 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট

    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11047059
    ২১ আগস্ট, ২০১৯ ১২:৫৬ অপরাহ্ন