কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত শাহজাদপুরের খামারিরা
২০ আগস্ট, ২০১৯ ০৯:৫৫ অপরাহ্ন


  

   সর্বশেষ সংবাদঃ

  • শাহজাদপুর/ ব্যাবসা বানিজ্য:

    কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত শাহজাদপুরের খামারিরা
    ২৭ জুলাই, ২০১৯ ১০:৩৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর থেকে : কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে দেশের গবাদীপশুর কেন্দবিন্দু শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকাসহ  ১৩টি ইউনিয়নের গাঁও গেরামে শত শত গো-খামারে বানিজ্যিক ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বনে স্বল্প সময়ে অল্প অর্থ বিনিয়োগে দেশি ও বিদেশি জাতের গরু মোটাতাজাকরণ কাজে ব্যাতিব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারিরা। গরু মোটাতাজাকরণ করে দারিদ্রতা জয় করে স্বাবলম্বী হয়েছেন শাহজাদপুরের শতশত বেকার যুবক ও এলাকাবাসী। প্রতি বছর মাত্র ৬ মাসে বাড়ির অন্যান কাজের পাশাপাশি প্রতিটি ষাঁঢ় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরন করে ৫০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা। তাদের গো-খামারে মোটাতাজাকরণকৃত গরু বিক্রি হবে দেশের বিভিন্ন কোরবানীর হাটে।
        খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকাসহ ১৩ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুকরণ অনুসরণে বানিজ্যিক ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশী গরু মোটাতাজাকরণ করা হয় উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেপরি ও পুরান টেপরি গ্রামে। এছাড়া উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের বাজিয়ার পাড়া গ্রামসহ পোতাজিয়া, রেশমবাড়ী, আঙ্গারু, বাড়াবিল, রুপবাটি, রাউতারা, পোরজনা, পুঠিয়া, ডায়া, নগরডালা, কাকুরিয়া, কাদাইবাদলা, চিথুলিয়া, কাশিনাথপুর, বনগ্রাম, সরিষাকোল, মশিপুর, নুকালী, শেলাচাপড়ী, চরাচিথুলিয়া, ভাইমারা, বহলবাড়ী, আহম্মদপুর, বিন্নাদায়ের, মাদলা, টিয়ারবন্দ, শাকতোলা, বিলকলমী, বৈলতৈল, গালা ও সোনাতুনী ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানের বাড়ি ও গো-খামারে, বিশেষতঃ উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বানিজ্যিক ভিত্তিতে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে । অনেক বেকার এলাকাবাসী স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগে দেশি ও বিদেশি জাতের ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, দেশি শংকর, অষ্ট্রেলিয়ান, জার্সিসহ বিভিন্ন জাতের ষাঁঢ় বাছুর ক্রয় করে মোটাতাজাকরণ করছেন। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই এসব বাছুর ও এঁড়ে ৬ থেকে ১০ মাস লালন পালন করে সার্বিক ব্যায় বাদ দিয়েও দ্বিগুন , তিনগুণ বা তারও বেশী দামে বিক্রি করতে শুরু করেছেন। এ কাজে তাদের খুব একটা বেশী বেগ ও খরচ করতে হচ্ছে না। কারণ হিসেবে গরু মোটাতাজাকরণ করা বেশ কয়েকজন গো- খামরিরা জানিয়েছেন, শাহজাদপুরে এমনিতেই প্রচুর দুর্বা ঘাস জন্মে থাকে। গরুকে এসব ঘাস খাওয়াতে বাড়তি কোন খরচ করতে হয় না। ফলে একজন লোক ৩/৪ টি গরু খুব সহজেই বাড়ির অন্যান্য কাজের পাশাপাশি গরু মোটাতাজাকরণ করতে পারে। বানিজ্যিক ভিত্তিতে গরু মোটাতাজাকরণ বেশ কয়েকজন খামারিরা জানিয়েছেন, ৫০/৫৫ হাজার টাকার একটি ষাঁঢ় ৬ মাস মোটাতাজাকরণ করে ১ লাখ, দেড় লাখ টাকা বিক্রি করছেন। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম মুসলিম দেশ হওয়ায় প্রতি বছর কোববানীর ঈদে এসব গরুর অভ্যন্তরীণ চাহিদা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রতি বছরের এ সময় বেশ লাভজনক দামেই মোটাতাজাকরণ গরুগুলো বিক্রি করা হয়ে থাকে। অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় ও অনেক বেকার একে অন্যের দেখাদেখীতে বানিজ্যিক ভিত্তিতে গরু মোটাতাজাকরণ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বানিজ্যিক ভিত্তিতে সবচাইতে বেশী গরু মোটাতাজাকরন গ্রাম পুরান টেপরি গ্রাম রয়েছে মোটাতাজাকরণে অনেক গো-খামার। ওই গ্রামের  স্বাবলম্বী বেশ কয়েকজন খামারিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে বংশপরম্পরায় শিখে আসা মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি অনুসরণ করে গরু মোটাতাজাকরণ করতেন। প্রথম থেকেই অনেকেই সফলতা লাভ করেন। পরবর্তীতে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণে অত্যন্ত লাভজনক এ পেশাকে অনেকই অনুসরণ করে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেন। একে অন্যের দেখাদেখিতে ওই গ্রামে কালের আবর্তনে বৃদ্ধি পেতে থাকে গরু মোটাতাজাকরণ করা খামারিদের সংখ্যা। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতেও একইভাবে গো-খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণ করে তাদের ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করেছেন।
        বিশেষজ্ঞ পশুবিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, ‘আগেকার মানুষ দু’একটি গরু পালতো শখ করে। বলদ গরু হলে হাল চাষের ক্ষেত্রে, আর ষাঁঢ় গরু হলে তা মাংসের জন্য অনেক খামারিই তৈরি করতেন। গো-মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। অনেক দেশের তুলনায় আমাদের দেশে গরুর সংখ্যা বেশী হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ গরুর স্বাস্থ্যই জীর্ণশীর্ণ। অথচ সামান্য যতœ নিলেই মোটাকাতাজকণের মাধ্যমে অধিক মাংস উৎপাদন করা সম্ভব । যা দেশে মাংসের চাহিদা পূরনের পাশাপাশি অনেক লোকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে শাহজাদপুরের গরু মোটাতাজাকরণকৃত অসংখ্য গো-খামার।’
    শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের পুরান টেপরি গ্রামে গরু মোটাতাজাকরণ খামারীরা জানান, বংশপরষ্পরায় আদি পুরুষের কাছ থেকে গ্রামের মুষ্টিমেয় খামারি ষাঁঢ় ও বলদ মোটাতাজাকরণের  কাজ করে আসছেন। পেশাটি ব্যাপক প্রবৃদ্ধিসম্পন্ন ও লাভজনক হওয়ায় শতাধিক বেকার গ্রামবাসী গরু মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। তাদের ধারাবাহিক সাফল্য উপজেলার অন্যান্য গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। ওই গ্রামে মোটাতাজাকরণকৃত গরু কৃষকরা স্থানীয় তালগাছী গরুর হাট, বেড়া উপজেলার চতুরআলী গরুর হাট, ঢাকার গাবতলী গরুর হাটসহ কোরবানীর ঈদের আগে দেশের বিভিন্ন গরুর হাটে বিক্রি করে আসছেন।
    এলাকাবাসী জানান, ফসলের মাঠে কৃষিকাজ বা বাড়ির অন্যান্য কাজের পাশাপাশি গরু মোটাতাজাকরণ করে অতি অল্প সময়ে শাহজাদপুরের শত শত বেকার আত্মপ্রত্যয়ী এলাকাবাসী স্বাবলম্বী হবার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবাদন রাখছেন। তাদের মতো স্থানীয় অসংখ্য বেকার জনগোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হলে প্রতি বছর বানিজ্যিক ভিত্তিতে গরু মোটাতাজাকরণ করে দেশে গো-মাংসের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে গরু রফতানির মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল পরিমান বৈদশিক মুদ্রা তারা অর্জন করতে পারবেন। এতে স্থানীয় বেকারদের সংখ্যা একদিকে যেমন কমে যাবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে সফলতা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠে তারা দরিদ্রতা জয় করে সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন। এজন্য তারা সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ প্রাপ্তিসহ সরকারি বেসরকারিভাবে যথযথ পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছেন।

     

    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ২৭ জুলাই, ২০১৯ ১০:৩৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 212 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    শাহজাদপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট

    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11040423
    ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০৯:৫৫ অপরাহ্ন