তাড়াশে বাল্য বিয়ের প্রতিবাদ করা কিশোরী বৃষ্টি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে
১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০৯:৩৫ অপরাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ অপরাধ:

    তাড়াশে বাল্য বিয়ের প্রতিবাদ করা কিশোরী বৃষ্টি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে
    ২৩ জুন, ২০১৯ ১২:২১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি:
    সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বৃষ্টি (১৪) নামের কিশোরী মেয়েটি বাল্য বিয়ের প্রতিবাদ করেছিল। তার অভিভাবকরা কথা শোনেন নি। জোর করে বিয়েও দেয়া হয়। কিন্তু বাল্য বিয়ের প্রতিবাদ করা কিশোরী বৃষ্টি স্বামীর বাড়িতে যায়নি। আর এভাবে কেটে গেছে বিয়ের দুই মাস। অবশেষে গত ১৫ জুন রাতে বরকে বাসর করার জন্য  আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসে কিশোরী বধূ বৃষ্টিকে জোরপূর্বক বাসর ঘরে থাকতে বাধ্য করলে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই কিশোরী বধূ। বর্তমানে ৭ দিন ধরে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বাল্য বিয়ের প্রতিবাদকারী কিশোরী বধূ বৃষ্টি এমনটি জানিয়েছেন দেশীগ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম।
    ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আর্দশ পাড়ায়।
    স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা বাচা খাতুন (৪৫) এক মাত্র মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে দেশীগ্রামের আদর্শ পাড়ায় বসবাস করেন। গত মাস দুয়েক আগে বৃষ্টির মা ও মামারা একই গ্রামের আব্দুল মতিন ওরফে মতির ছেলে আব্দুল মমিন (১৬)’র ছেলের সাথে ২০১৬ সালে দেশীগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পাশ করা বৃষ্টির বিয়ে ঠিক করে।  
    এ বাল্য বিয়ে নিয়ে মা -মেয়ে বৃষ্টি ও মামাদের সাথে বাগ বিতন্ডা হয়। এদিকে বৃষ্টি সাফ জানিয়ে দেয় এ বাল্য বিয়েতে তার মত নেই । বরং তাকে স্কুলে পড়ালেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু অভিভাবকরা জোরপুর্বক কাবিন ছাড়াই বিয়ের কালেমা পড়তে বাধ্য করেন।  এরপর গত দুই মাসে অসংখ্যবার বৃষ্টির অভিভাবকরা নতুন বরের সাথে বাসর  কাটানোর চাপ দেয়। অবশেষে গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় নতুন জামাইকে বাড়িতে আমন্ত্রন করে নিয়ে আসেন বাচা খাতুন। এক পর্যায়ে জোর পুর্বক কিশোরী বধূ বৃষ্টি কে বাসর ঘরে যেতে বাধ্য করেন। এতে রাগে অভিমানে ঘরে রাখা তরল কীটনাশক (বিষ) পান করেন। পরে বিষয়টি টের পেয়ে বৃষ্টির অভিভাবকরা প্রথমে রাত ৯ টায় তাড়াশ হাসপাতালে নিয়ে আসেন বিষয়টি তাড়াশ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ দেবব্রত রায় নিশ্চিত করেছেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মূমূর্ষ অবস্থায় বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে থেকে বৃষ্টি সেখানে অদ্যবধি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
    এ প্রসঙ্গে দেশীগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিনি বিষয়টি জেনেছেন। তবে বিয়ের আগে কেউ যদি জানাতো তাহলে আমরা বাল্য বিয়ে বন্ধ করতাম।   

     

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ২৩ জুন, ২০১৯ ১২:২১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 564 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12075275
    ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০৯:৩৫ অপরাহ্ন