কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক অনিয়ম, ভোগান্তির শিকার রোগীরা
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:১৫ অপরাহ্ন


  

  • কামারখন্দ/ জনদুর্ভোগ:

    কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক অনিয়ম, ভোগান্তির শিকার রোগীরা
    ০৯ জুন, ২০১৯ ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    খাইরুল ইসলামঃ কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। এতে সরকারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কমর্সূচিসহ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত থাকছে না আবাসিক মেডিকেল অফিসার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নেই। আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনও নষ্ট। ফলে সাধারণ রোগীদের রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরের ক্লিনিক থেকে করতে হচ্ছে। এছাড়া অভিযোগ আছে, নিন্মমানের খাবার সরবরাহের কারণে অনেক রোগী সেখানকার খাবার খেতে পারেন না। হাসপাতালের বহিবির্ভাগে কর্মরত ডাক্তাররাও সময়মতো অফিস করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। 
    আলেয়া বেগম নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, সকালে আমার স্বামীকে নিয়ে এসেছি চিকিৎসার জন্য কিন্তু দুপুর হয়ে গেল এখন পর্যন্ত ডাক্তারের দেখা পাইনি। একবার শুধু নার্স এসেছিল।
    কামারখন্দ উপজেলার কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, বহিবির্ভাগের ডাক্তাররা সময়মতো আসেন না, চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগিরা প্রায়ই এসে ফিরে যান এবং প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।
    স্থানীয় বাসিন্দা আনু বলেন, কামারখন্দ হাসপাতালে অনিয়মের শেষ নেই এবং পরিবেশ অত্যান্ত নোংরা। ডাক্তারদের গাফিলতির কারণে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এগুলো দেখার কেউ নেই। বহিবির্ভাগের ডাক্তার সকাল সারে নয়টায় হাসপাতালে আসার কথা থাকলেও প্রায়ই তারা আসেন বেলা ১১টার পরে। 
    এছাড়াও রোগী ভর্তিতে অনিয়ম, তালবাহানা, ঔষধ সংকট, কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা সহ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। উন্নয়নের নামে চলছে আইওয়াশ মাত্র বলে অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ আসা বিভিন্ন রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মৌখিকভাবে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে প্রেরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
    কর্তৃপক্ষের এসকল অনিয়ম আর অবহেলা চিকিৎসা খাতে উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের গ্রহন করা সকল পদক্ষেপ ও কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সকল অনিয়ম আর অবহেলার দ্বারা।
    সচেতন নাগরিকদের দাবি চিকিৎসা খাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী এ সকল অনিয়ম অবহেলা অনতিবিলম্বে বন্ধ করা না গেলে আগামীতে এর ভয়াবহতা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা সচেতন মহলের। 
    অভিযোগ রয়েছে কামারখন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালটেন্ট (গাইনী) ডাঃ নার্গিস সুলতানা নিয়মিত ডিউটি না করেই বেতন উত্তোলন করেন। ঢাকা থেকে তিনি অফিস করেন এবং মাসে কয়েকদিন ডিউটি করে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। 
    অন্যদিকে ডাঃ তালুকদার নাজিবুল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি রোগিদের চেয়ে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ডিউটি চলা অবস্থায় রোগি রেখে তিনি রিপ্রেজেন্টেটিভদের বাইকে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
    অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ ফারুক হোসেন বলেন, আগের অনিয়মের কিছু বিষয় শুনেছি তবে আমি আসার পরে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। আমিসহ হাসপাতালে সাতজন ডাক্তার নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। 

    মোঃ খায়রুল ইসলাম ০৯ জুন, ২০১৯ ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 631 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    কামারখন্দ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12249201
    ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:১৫ অপরাহ্ন