চৌহালীতে মামলা তুলে নিতে বাদীনির চোখে কেচির ঘা আসামীরা বল প্রয়োগে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর
১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১০:০২ অপরাহ্ন


  

  • চৌহালী/এনায়েতপুর/ অপরাধ:

    চৌহালীতে মামলা তুলে নিতে বাদীনির চোখে কেচির ঘা আসামীরা বল প্রয়োগে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর
    ১৮ মে, ২০১৯ ১০:০৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    চৌহালী প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে লুটপাট ও ভাংচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে বাদীনি উপজেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য শিরিন সুলতানাকে (৫০) আসামীরা ঘর আটকিয়ে মারধর করেছে। তাকে গুরুতর আহতবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ডান চোখে উপুর্যপরী কেচির আঘাত হানায় সার্জারী বিভাগ থেকে চক্ষু বিভাগে স্থানান্তর করেছে চিকিৎসকরা। হামলার সময় সন্ত্রাসী ঐ আসামীরা বল প্রয়োগ করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগী ঐ নির্যাতীতা নারী জানিয়েছে।
     
    আহত শিরিন সুলতানা অভিযোগ করে জানান, গত ১০ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে চৌহালী উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে তার বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে খাসপুখুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলী আকবার ও মোখলেছুরের নেতৃত্বে লাঠি-সোটা নিয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। তখন তালা ভেঙ্গে ঘরে ডুকে আসবাব পত্র ভাংচুর, দুই ভরি স্বর্ন, শাড়ী, নগদ ৫০ হাজার টাকা, ২০ মন ধান ও ৭ মন সরিষা লুট সহ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। তখন এলাকার ফজলুল হক, দাউদ সরকার, নাসরিন খাতুন এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করে ঐ সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে চৌহালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। 
    এ ঘটনায় গত বুধবার সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলী আদালতে আলী আকবার সহ ১১ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে আদালত পুলিশকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়। মামলার একদিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চৌহালী উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগ সভানেত্রী শিরিন সুলতানা বাড়ি আসলে মামলার আসামী খাসপুখুরিয়া ইউনিয়র বিএনপির সেক্রেটারী আলী আকবারের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামীরা তাকে ঘরে আটকিয়ে জোড় পুর্বক সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। এরপর মারধর করে কেচি দিয়ে চোখ উপরে ফেলতে আঘাত করে। তখন তার আত্ব চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে অবস্থার অবনতি হলে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সে ঐ চোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পারছেনা। 
    হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ সফিকুল ইসলাম সজিব জানান, রোগীর ডান চোখটি স্থায়ী ভাবে নষ্ট করে দেবার জন্য গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। সার্জারী ও চক্ষু বিভাগের সমন্বয়ে চিকিৎসকদের উচ্চ পর্যায়ের একটি বোর্ড বসিয়ে চিকিৎসার চেষ্টা চলছে। তার অবস্থা আশংকাজনক।
    এদিকে ঘটনাটি শোনা মাত্র টাঙ্গাইল মানবাধিকার কমিশনের সাধারন সম্পাদক কাজী রিপন নির্যাতীত ঐ নারীকে দেখতে যান এবং চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। তিনি জানান, পুলিশ মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়াতেই আসামীদের দ্বারা পুনরায় হামলার ঘটনা ঘঠেছে। এটা আসলেই দুঃখজনক। আমরা চাই দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক।
    এদিকে মামলার বিষয়ে চৌহালী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
    সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চৌহালী ১৮ মে, ২০১৯ ১০:০৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 334 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    চৌহালী/এনায়েতপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট

    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11030412
    ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১০:০২ অপরাহ্ন