শাহজাদপুরে এশারত বাহিনীর প্রধান এশারত পুলিশের হাতে গ্রেফতার
২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন


  

  • শাহজাদপুর/ অপরাধ:

    শাহজাদপুরে এশারত বাহিনীর প্রধান এশারত পুলিশের হাতে গ্রেফতার
    ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০৩:৩৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    শামছুর রহমান শিশির, বুধবার, ২৪ এপ্রিল- ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ :  অবশেষে শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, প্রতাপশালী এশারত বাহিনীর প্রধান এশারতকে গ্রেফতার করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। শাহজাদপুর উপজেলার ঘোড়শাল সাহিত্যিক বরকতুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ তাহসিন হোসেনের দায়ের করা মামলায় আজ ( বুধবার ) সকাল ১০ টায় উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের মরাকাদাই গ্রামের বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। 
    জানা গেছে, শাহজাদপুরে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়শাল সাহিত্যিক বরকতুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে কলেজের লাইব্রেরিয়ান কর্তৃক লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ করায় ঘটনায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। মামলা সূত্রে প্রকাশ, গত ১৮ এপ্রিল দুপুরে কলেজের লাইব্রেরিয়ান তানবীর হাসান, এশারত আলী, আলম আলী ও আক্কাছ মন্ডল কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে তার মনগড়া শিক্ষক প্রতিনিধি প্যানেল তৈরি করে অধ্যক্ষকে তাহসিন হোসেনকে জোর করে স্বাক্ষর প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করে । অধ্যক্ষ ওই মনগড়া কাগজে স্বাক্ষর না করায় তাকে লাঞ্ছিত এবং ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে । কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক তাহসিন হোসেন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, কলেজের লাইব্রেরিয়ান তানবীর হাসান ও তার পরিবারের লোকেরা প্রায়ই কারণে অকারণে হুমকি প্রদর্শন করতো। তারা কলেজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছিলো। প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে। শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন মেয়াদ উত্তীর্ণের পূর্বেই এবং তফসিল ঘোষণার আগেই মনগড়া শিক্ষক প্রতিনিধি প্যানেল তৈরি করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অপচেষ্টার প্রতিবাদেই এ ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। ইতিপূর্বে ওই লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে কলেজে নানা অনিয়মের অভিযোগের কারণে গভর্নিং বডির সদস্য তাকে দুইবার কারণ দর্শনোর নোটিশ  (শোকজ) দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। অপরদিকে, গত ১৯ এপ্রিল অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান তার কার্যালয়ে এক জরুরি সভা আহবান করেন। উক্ত জরুরি বৈঠকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়। এদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আফজাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত করার ঘটনায় তানবীর হাসান, আলম আলী, এশারত আলী ও আক্কাছ মন্ডলকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এদিন সকালে শাহজাদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক আসলাম হোসেনের নেতৃত্বে থানার একদল পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে এশারতকে গ্রেফতার করে। 
    তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের বেতকান্দি এলাকার এশারত বাহিনীর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। বেলতৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হওয়ায় দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করলেও এলাকার কেহই প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। এশারত বাহিনী একই ইউনিয়নের আইগবেড়া গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেনের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তার মধ্য হতে ২০ হাজার টাকা আদায় করেছে। বাকী ৮০ হাজার টাকা দাবি করে নিয়মিত ইসমাইল হোসেনকে মারপিট ও খুন জখমের হুমকিও প্রদান করে এশারত বাহিনী। 
    ইতিপূর্বে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং শাহজাদপুর থানায় ইসমাইল হোসেনের দায়ের করা অপর এক অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, ইসমাইল হোসেন একজন দিন মজুর ও পান সুপারি বিক্রেতা। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ইসমাইলের প্রতিবেশী বরাত আলীর মেয়ে সুমী খাতুন (১৫) তার ছেলে আশরাফ আলী (২০)’র সাথে প্রেমের দাবিতে বিয়ের জন্য তার বাড়িতে ওঠে। এ সময় সে মেয়ের বাবা সহ গ্রাম্য প্রধানদের শরণাপন্ন হয়। মেয়ের বাবা বরাত আলী এবং এলাকার প্রধান আব্দুল গফুর, পিতা- মৃত. জুলমত ও আঃ সামাদ, পিতা- মৃত. ইমান আলীসহ অন্যান্যরা ছেলে-মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ায় বিয়ের ব্যবস্থা না করে মেয়েকে তার বাব্ াআশরাফ আলীর সাথে পাঠিয়ে দেয়। তাছাড়াও আশরাফ আলী ছেলের বাবা ইসমাইলের গরীব সংসারে মেয়েকে বিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। এ ঘটনা যে কোন ভাবে জানতে পেরে এশারত বাহিনীর প্রধান এশারত আলী (৬০) ও তার ৩ পুত্র আঃ লতিফ (৪৫), আনোয়ার হোসেন (৩৫), মোঃ বাবু মিয়া (৩০) সহ দলবল নিয়ে ইসমাইলের বাড়িতে গিয়ে আঃ গফুর এবং আঃ সামাদকে মারপিট করে। মারপিটের পাশাপাশি হতদরিদ্র ইসমাইল হোসেনের ১ লাখ টাকা জরিমানা করে। গত ১৩ জানুয়ারি সকাল ১১ টায় ইসমাইল তার জীবন রক্ষার্থে স্ত্রী আয়শা খাতুন ও স্ত্রীর বড় ভাই মোঃ আঃ কুদ্দুসকে সঙ্গে নিয়ে চরবেতকান্দি এলাকায় গিয়ে ২০ হাজার নগদ টাকা এশারতের হাতে তুলে দেয়। বাকি ৮০ হাজার টাকা দিতে অসমর্থ হওয়ায় তাকে মারপিট ও হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেয়া হয়। নিরুপায় হয়ে ইসমাইল হোসেন গত ২৪ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর এবং ২৫ জানুয়ারি শাহজাদপুর থানায় দায়ের করে। পাশাপাশি এশারত বাহিনীর চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের অপর একটি অভিযোগ গত ২৯ জানুয়ারি শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বরাবর দাখিল করে প্রতিকার দাবি করেন অসহায় দিনমজুর ইসমাইল হোসেন। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ‘এলাকায় সস্ত্রাসী কায়দায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসলেও প্রাণভয়ে প্রতিকার বা প্রতিরোধে সাহস না পাওয়ায় এশারত বাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ ‘বিচারের বাণী’ নিরবে নিভৃতে কাঁদার মতোই চাপা পড়ে যায়। অবশেষে এশারত বাহিনীর প্রধান এশারতকে পুলিশ গ্রেফতার করায় ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০৩:৩৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 558 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    শাহজাদপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11706096
    ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন