তাড়াশে ১৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টি বিদ্যালয়ই ঝুকিতে : ক্লাস করতে হয় ভয়ে ভয়
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৪০ অপরাহ্ন


  

   সর্বশেষ সংবাদঃ

  • তাড়াশ/ শিক্ষা:

    তাড়াশে ১৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টি বিদ্যালয়ই ঝুকিতে : ক্লাস করতে হয় ভয়ে ভয়
    ২২ এপ্রিল, ২০১৯ ০৫:৫১ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টি বিদ্যালয়ই বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় রয়েছে ১৪টি। এসব বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও বারান্দায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাড়াশ উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের মধ্য উপজেলার চৌড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাদোসৈয়দপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুন্দইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুয়ারাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রানীরহাট চককলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর-হামকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিরল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিলট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুল্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘরীয়া-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চকরুসুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকুশাবাড়ি-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালুপাড়া-বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঁটাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছ এ প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ভবন না করা হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকউপজেলার চৌড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯২৬ সালে উপজেলার তালম ইউনিয়নের চৌড়া গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। এরপর কেটে গেছে ৭০ বছর। ১৯৯৬ সালে এসে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে দেয় সরকার। বিদ্যালয়টির পাকা ভবনের তিনটি শ্রেণিকক্ষ এবং একটি শিক্ষকদের অফিস কক্ষ। ভবনের দেয়ালজুড়ে বড় বড় ফাটল, আবার কোথাও কোথাও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ায় বেরিয়ে এসেছে মূল কাঠামোর রড। বর্ষায় ফাটল দিয়ে পানি চুয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই ক্লাস করতে হয় কোমলমতী শিক্ষার্থীদের। ভবনটি নির্মাণের পর নতুন করে কোনো সংস্কার না হওয়ায় দেয়ালজুড়ে ফাটল ও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে আমাদের ক্লাস করতে হয় ভয়ে ভয়ে। আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া জাহান জানায়, ক্লাস চলাকালে অনেকবার ছাদের প্লাস্টার খসে পড়েছে। অভিভাবক ফজলুল হক জানান, আমার মেয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায়। কিন্তু বিদ্যালয়টির কক্ষগুলোর যে অবস্থা আমরা তাতে চিন্তায় থাকি। এ ছাড়াও বিদ্যালয়টি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। আর এতে বড় দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুলের ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের মধ্য ক্লাস করতে হয়। ভবনের দেয়ালে সামান্য একটি পেরেক লাগাতে লাগলেও প্লাস্টার খসে পড়ে। চৌড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম জানান, বিদ্যালয়টির ভবনের বয়স অনেক দিন হওয়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া সে সময়ে ভবন নির্মাণের সময় অনিয়ম ছিল বলে টেকসই হয়নি। বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে কয়েক বছর গেলেও এখনো আমরা নতুন ভবন পাইনি। ঝড়ের সময় আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভবনের বাইরে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। গুল্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হালিম জানান, ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এ কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এ ঝুঁকিপুর্ণ ভবনটি আবার নির্মাণের জন্য বিভিন্ন মহলে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপজেলায় ১৩৬টি বিদ্যালয়ের মধ্য প্রায় ৫০টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি বিদ্যালয় রয়েছে। এ ভবনগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে
    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ২২ এপ্রিল, ২০১৯ ০৫:৫১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 280 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    বিশ্বকাপ ক্রিকেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11395204
    ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৪০ অপরাহ্ন