শাহজাদপুরে মাসে ৫০ কোটি টাকার জৈবসার গোবর নষ্ট হচ্ছে ||চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    

শাহজাদপুর: কৃষি ও খাদ্য

শাহজাদপুরে মাসে ৫০ কোটি টাকার জৈবসার গোবর নষ্ট হচ্ছে
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ১৮-০৯-২০১৮ ১০:১৮ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ


ফাইল ছবি

শামছুর রহমান শিশির: দেশের নিউজিল্যান্ড খ্যাত জনপদ শাহজাদপুরে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকার উৎকৃষ্টমানের জৈব সার গোবর বিনষ্ট করে জ্বালানী (স্থানীয় ভাষায় ঘসি) তৈরি করা হচ্ছে। জৈবসার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে কৃষকেরা ফসলী জমিতে জৈব সারের পরিবর্তে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করছে। এতে একদিকে রাসায়নিক সার আমদানীতে প্রতি বছর সরকারকে বিপুল পরিমান সরকারি অর্থ ভর্তূকি দিতে হচ্ছে।অন্যদিকে ফসলী জমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগে দিন দিন জমির উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে। ফলে সরকার ও কৃষক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অথচ গো-সম্পদ সমৃদ্ধ জনপদ শাহজাদপুর থেকে দিনে সংগৃহিত প্রায় ৩০/৩৫ লাখ কেজি গোবর যদি জ্বালানী হিসাবে (স্থানীয় ভাষায় ঘষি) ব্যবহার না করে ফসলী জমিতে প্রয়োগ করা হতো তাহলে কৃষকের ফসলের উৎপাদন ব্যয় কমে যেতো, ফসলী জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পেতো ও সরকার কর্তৃক রাসায়নিক সারে ভর্তুকির পরিমান কমে যেতো। শাহজাদপুর উপজেলা পশুসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলায় গবাদীপশুর মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭শ’৮৫ টি (আপটু ডেট রিপোর্ট অনুসারে) । এর মধ্যে দেশি জাতের গরুর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৩শ’ ৭৬ টি। সংকর জাতের গরুর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ১শ’ ২০টি। বেসরকারী দুগ্ধ খামার ৩ হাজার ৬ শ’৫০ টি। রেজিষ্ট্রিকৃত খামারের সংখ্যা ২ হাজার ৫ শ’ ৮৮ টি। দেশি বকনা গরুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬ শ ৯২ টি, দেশি এঁড়ে বাছুরের সংখ্যা ২৮ হাজার ৩ শ’২০টি, বকনা বাছুরের সংখ্যা ১৯ হাজার ৫ শ’ ৩৬ টি। সংকর জাতের বকনার সংখ্যা ১৪ হাজার ২শ’টি, সংকর জাতের বকনা বাছুরের সংখ্যা ২৫ হাজার ৪ শ’ ৭৫ টি। সরকারি শুমারী অনুসারে কাগজে কলমে শাহজাদপুরে গবাদীপশুর সংখ্যা ৩লাখ ৪৫ হাজার ৭শ’৮৫ টি হলেও বাস্তবে এর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশী। গো-খামারিরা জানান, পরিণত বয়সে একটি উন্নতজাতের গরু থেকে দিনে প্রায় ১০ কেজি থেকে ২০ কেজি গোবর পাওয়া যায়। শাহজাদপুরের সর্বমোট গরু থেকে দিনে প্রায় ৩০/৩৫ লাখ কেজি গোবর সংগৃহীত হচ্ছে। একটি পরিণত বসয়ের গরু থেকে যে পরিমান গোবর দিনে পাওয়া যায় তা দিয়ে প্রায় অর্ধেক বস্তা জ্বালানী (স্থানীয় ভাষায় ঘষি) তৈরি হচ্ছে।প্রত্যেক বস্তা জ্বালানী (স্থানীয় ভাষায় ঘষি) শাহজাদপুরের গাঁও গেরামে একশ বিশ টাকা থেকে একশ আশি টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে শাহজাদপুরে দিনে প্রায় দেড় কোটি টাকার উন্নতমানের জৈবসার গোবর বিনষ্ট করে জ্বালানী (স্থানীয় ভাষায় ঘষি) তৈরি করা হচ্ছে।পক্ষান্তরে, ইরি-বোরো ধান চাষের সময় এক বিঘা জমিতে দুই দফায় ৩০-৩৬ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োগের নিয়ম থাকলেও কৃষকেরা অধিক ফলনের আশায় ৫০ থেকে ৬০ কেজি ইউরিয়া সার ও অতিমাত্রায় কীটনাষক প্রয়োগ করছে ।ফলে জমির উর্বরাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে ইউরিয়া সারের উৎপাদন খরচ পড়ে ১৭৫০ টাকা। আমদানীকৃত ইউরিয়া সারের খরচ পড়ে প্রায় ১৭৫০ থেকে ১৮০০ টাকা । কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার ভর্তূকি মূল্যে তা বিক্রি করছে বস্তা প্রতি ১ হাজার টাকায়। প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারে সরকার প্রায় ৭৫০ টাকা বস্তাপ্রতি ভর্তুকি দিয়ে সার বিক্রি করছে। কিন্তু সরকার কর্তৃক ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের কাছে বিক্রয়কৃত সার প্রয়োজন মাফিক প্রয়োগ না করায় জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সারের অপচয় হচ্ছে। অথচ উন্নতমানের জৈবসার হিসাবে বিবেচিত গোবর জমিতে প্রয়োগ করলে কৃষকের ব্যয় হ্রাস, ফসলী জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি,ফসলী জমি থেকে প্রাপ্ত খাদ্যশষ্যের পুষ্টিমান বৃদ্ধি ও সরকারের সারে ভর্তুকি কমে যেতো। উন্নত বিশ্বের ফসলী জমিতে জৈব সারের প্রয়োগের হার ৪ থেকে ৫ ভাগ থাকলেও বর্তমানে তা ২ ভাগেরও নীচে নেমে এসেছে। জমিতে বিভিন্ন ধরনের সুষম রাসায়নিক সার অতি মাত্রায় ব্যবহারে জমিতে পিএইচ এর মাত্রা নিউট্রালে না থেকে স্থানভেদে কম বা বেশী হচ্ছে যা ফসলী জমির জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। ফলে মাত্র ১শ ২৩ বর্গ মাইল আয়তনের এ উপজেলায় ৫ লক্ষাধিক বৃহৎ এ জনগোষ্ঠির জন্য চাষ যোগ্য জমি মাত্র ২৩ হাজার ৫ শ ৪৫ হেক্টরের জমিতে উর্বরা শক্তি অতীতের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। খাদ্য ঘাটতি এলাকা হিসেবে বিবেচিত শাহজাদপুর উপজেলা এলাকায় বসবাসকারী জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ মাইলে ৩ হাজার ৪ শ ১৮ জন। এ দিকে বিবেচনায় এলাকাবাসীর খাদ্যশষ্যের যোগানে উচ্চ ফলনশীল ফসল ফলনের আশায় অজ্ঞ কৃষকেরা ফসলী জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করছেন।এতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের উৎপাদন ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেলেও জমিতে রোপিত ফসল মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ নিতে না পারায় কৃষকেরা আশানুরূপ ফসল ফলাতে পারছেন না।শাহজাদপুরের বিশাল গো-সম্পদ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ কেজি প্রাপ্ত গোবর নির্দিষ্ট সময় মাটির নীচে পুঁতে রেখে পুরোপুরি পঁচিয়ে উন্নতমানের জৈব সার হিসাবে ফসলী জমিতে প্রয়োগ করা হলে সর্বক্ষেত্রে এর সুফল পাওয়া যেতো। অতি সহজলভ্য,পরিবেশবান্ধব ও জমির উর্বরা বৃদ্ধিকারী ওই গোবর জৈব সার হিসাবে ব্যবহার করা হলে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যায় কমবে,অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যতা বজায় থাকার পাশাপাশি জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাবে ও ফসল উৎপাদন বেড়ে যাবে। পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের পুষ্টিগ্রহনের ক্ষমতাও বেড়ে যাবে ও রোগবালাই অনেক কমে যাবে বলে অভিজ্ঞ কৃষিবিদদের অভিমত। স্থানীয় কৃষিবিদগণ কৃষকদের রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জৈব সার হিসাবে ফসলী জমিতে গোবর প্রয়োগের পরামর্শ দিলেও এখোনো প্রায় সকল কৃষকের সচেতনতার অভাব ও যথাযথ জ্ঞান না থাকায় ফসলী জমিতে জৈব সার হিসাবে গোবর প্রয়োগে কোন উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে শাহজাদপুরে মাসে সংগৃহিত প্রায় ৫০ কোটি টাকার উৎকৃষ্টমানের জৈবসার গোবর বিনষ্ট হচ্ছে। এ পরিস্থিতি পাল্টাতে ফসলী জমিতে রাসায়নিক সারের প্রয়োগের ক্ষতিকর দিক ও জৈবসার জমিতে প্রয়োগে সুফল ব্যাপক ভিত্তিতে কৃষকদের মাধ্যে সচেতনতামূলক ও উৎসাহমূলক প্রচার প্রচারণা চালানো উচিত বলে বিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

১৮-০৯-২০১৮ ১০:১৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 168 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

চৌহালী নিউজঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

নির্বাচিত খবরসমুহ
শাহজাদপুর : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

স্পন্সরড অ্যাড

ভিজিটর সংখ্যা
100
২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন