শাহজাদপুরের গরু ব্যবসায়ীরা ডাকাত আতংকে||চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    

শাহজাদপুর: অপরাধ

শাহজাদপুরের গরু ব্যবসায়ীরা ডাকাত আতংকে
অনলাইন নিউজ এডিটর ১৮-০৮-২০১৮ ০৬:৫৭ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ


শাহজাদপুরের গরু ব্যবসায়ীরা ডাকাত আতংকে

আসন্ন ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা থেকে গত কয়েকদিন ধরে নৌপথে কোরবানির গরু পরিবহণ শুরু হয়েছে। গরু বোঝাই নৌকা গুলো ঢাকা,চট্টগ্রাম,নারায়ণগঞ্জ,মুন্সিগঞ্জ,ফতুল্লা ও কুমিল্লার বিভিন্ন কোরবানির পশুর হটে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সব এলাকায় শাহজাদপুরের কোরবানির গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় গরু মালিকরা নিজেরা অথবা ব্যাপারীরা এখানকার গরু ওই সব এলাকায় নিয়ে কিক্রি করে। নৌপথে যাতায়াত সহজ ও খরচ কম হওয়ায় প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ভাল দাম পাওয়ার আশায় তারা নদী পথে নৌকায় করে গরু নেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু এ নৌপথে এ বছর এখনও পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার না করায় গরু ব্যবসায়ীরা নৌ ডাকাতির আশংকায় আতংকিত হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ ব্যাপারে উল্টাডাব গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আনসার আলী ব্যাপারী,মফিজ ব্যাপারী,সাইদুল সরকার,আবুল হোসেন,আব ুতাহের, জহির উদ্দিন,গোপালপুর গ্রামের চাঁন মিয়া,ভোলা সরকার,শাহা আলম,বানতিয়ার গ্রামের আলমাস মন্ডল,নাসির উদ্দিন,রজব আলী,শফিকুল ইসলাম,নজরুল ইসলাম,রেজাই প্রাং,জোতপাড়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম,আহাম্মদ আলী,নজিবর রহমান,কৈজুরি গ্রামের সোবহান আলী,অহাম্মদ আলী, আব্দুল করিম, জামিরতা গ্রামের হোসেন আলী, রইচ ব্যাপাী,বাজিয়ারপাড়া গ্রামের হোসেন আলী,আব্দুস সোবাহান,রূপসী গ্রামেরমানিক ব্যাপারী,চেংটারচর গ্রামের বাবলু শেখ,শফিকুল ইসলাম জানান,গত বছর যমুনা ও পদ্মা নদীর ওমরপুর,শৈলজানা,লালগোলা,মাওয়া এলাকার চরে এ এলাকার ৩টি নৌকায় ডাকাতি হয়। এতে ডাকাতরা প্রায় ৯০টি গরু লুট করে। এ ছাড়া উল্টাডাব গ্রামের মুছা বিশ^াস নামের এক ব্যাপারীকে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দিয়ে গরু লুট কওে নিয়ে যায় ডাকাতরা। ফলে এ বছর এ সব এলাকার গরু ব্যবসায়ীদেও মধ্যে ডাকাতির আতংক বিরাজ করছে। তারা কোরবানির গরু বহণের নৌকা গুলো ডাকাত প্রবণ এলাকায় পুলিশের বিশেষ টিম দিয়ে নিরাপদে পৌছে দেয়ার দাবী জানায়। সেই সাথে এ নৌপথে নৌপুলিশ টহল আরো জোরদার করার দাবী জানান। তারা আরো বলেন,এ বছর বাজাওে গো-খাদ্য খইল ও ভুষির দাম বেশি। তাই গরু লালন পালনে তাদের খরচ বেশি হয়েছে। অপর দিকে বেশির ভাগ ট্রাকের সঠিক কাগজপত্র না থাকায় চরম ট্রাক সংকট চলছে। নৌপথে কোরবানির গরু পরিবহণে মানুষ বেশি ঝুকেছে। এতে নৌকার চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে নৌকার ভাড়াও বেড়ে গেছে। তারপরেও নৌপথে যাতায়াত সহজ ও জামে আটকা পড়ে থাকতে হয় না। এ ছাড়া ভাড়াও ট্রাকের চেয়ে অর্ধেক। তাই এ এলাকার লোকজন নৌপথেই গরু বেশি পরিবহণ করে থাকে। কিন্তু নৌপথে ডাকাতির আশংকা দেখা দেয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে। তাই তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এ ব্যাপারে জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ বলেন,আমাদেও এলাকা গবাদিপশুর জন্য বিখ্যাত। এখানকার প্রচুর পরিমানে কোরবানির গরু ঢাকা,চট্টগ্রাম,নারায়ণগঞ্জ,কুমিল্লা নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছর এ সব নৌকায় ডাকাতি হওয়ায় ও তাকাতের হামলায় এক জন মারা যাওয়ায় এ বছর নৌ পুলিশ টহল জোরদার না করায় তারা আতংকগ্রস্থ রয়েছে। তিনি এ ব্যাপাওে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। কিন্তু এখনো সে রকম ভাবে ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি আবারো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। এ ব্যাপাওে কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, এ নৌপথে নিরাপত্তা দিতে পুলিশকে বলা হয়েছে। তারপরেও নিরাপত্তার অভাব মনে হলে গরু মালিকরা আমাকে জানালে আমি প্রশাসনের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁ বলেন,নৌপথে যাতে কোরবানির পশুবাহী নৌকা নিরাপদে গন্তব্যে যেতে পারে সে জন্য ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ ব্যাপাওে শর্ত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কোন প্রকার সমস্য হলে আমাকে জানালে আমি অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তার পরেও আমি আবারো সংশ্লিষ্ট থানাকে এ ব্যাপাওে ব্যবস্থা নিতে বলব। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ বলেন, এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শাহজাদপুরের খামারীরা ৩৮ হাজার গরু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে লালন করেছে। এলাকার ১৪ বাজার গরুর চাহিদা মিটিয়ে ২৪ হাজার গরু ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এ সব গরু যাতে নিরাপদে পৌছাতে পাওে সে জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তারপরেও কোন অসুবিধা হলে আমাকে জানালে আমি সাধ্যমত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খাজা গোলাম কিবরিয়া বলেন, নৌপথে নিরাপদে কোরবানির গরুবাহী নৌকা চলাচলে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তারপরেও যদি কেউ নিরাপত্তার অভাব বোধ করে,সে ক্ষেত্রে আমাকে জানালে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া তিনি আরো বলেন,সংশ্লিষ্ট সব থানাকেও নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে।

১৮-০৮-২০১৮ ০৬:৫৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 209 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

চৌহালী নিউজঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

নির্বাচিত খবরসমুহ
শাহজাদপুর : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

স্পন্সরড অ্যাড

ভিজিটর সংখ্যা
100
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন