তাড়াশে আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পের ৪৪৫ পরিবারের মানবেতর জীবন||চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    

তাড়াশ: জীবনযাত্রা

তাড়াশে আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পের ৪৪৫ পরিবারের মানবেতর জীবন
অনলাইন নিউজ এডিটর ৩০-০৭-২০১৮ ০৪:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ


তাড়াশে আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পের ৪৪৫ পরিবারের মানবেতর জীবন

মৌলিক চাহিদার শুধুমাত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের। তাও আবার দীর্ঘদিন মেরামত না করায় সবগুলো ঘরের টিনের চাল ও বেড়া ঝাঝরা হয়ে ছোট-বড় অসংখ্য ছিদ্র হয়েছে। প্রতিটি ঘরের দরজা, জানালা, খাম, খুঁটি ভেঙে গেছে।


জরাজীর্ণ ঘরে পলিথিন ও পাটের চট দিয়ে কোনোমতে চলছে বসবাস। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন সুবিধাসহ নানা প্রতিকূলতায় চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। এমন করুণ চিত্র সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার চারটি আশ্রয়ণ ও তিনটি আবাসন প্রকল্পে বসবাসকারী ৪৪৫ পরিবারের।


সরেজমিনে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বড় মাঝদক্ষিণা আশ্রয়ণ প্রকল্প, কুমাল্লু আশ্রয়ণ প্রকল্প; বারুহাঁস ইউনিয়নের বস্তুল আশ্রয়ণ প্রকল্প ১ ও ২, বস্তুল আবাসন প্রকল্প; মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের মাগুরা আবাসন প্রকল্প ১ ও ২ ঘুরে  দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘরের চালের ওপর ও নিচে পলিথিন দিয়ে রাখা হয়েছে। আর যাদের পলিথিন কেনার সামর্থ্য নেই, তারা চালের ছিদ্র দিয়ে পড়া বৃষ্টির পানি হাড়ি-পাতিলে ধরার চেষ্টা করছেন।


আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা রেবেকা খাতুন, নুরজাহান, জাবেদা খাতুন, ছালেকা, ইসমাতারা পারভিন, চাঁন মিঞাসহ অনেকে জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই চাল ও বেড়ার অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। নিজেরা তো ভিজেই, সেই পানিতে ঘরে থাকা চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ কাপড়-চোপড়ও ভিজে যায়।


নিকটবর্তী বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষা লাভের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে শিশুরা। নলকূপগুলোও প্রায় সব নষ্ট। অন্য পাড়া থেকে খাবার পানি বয়ে আনেন তারা। নিরুপায় হয়ে পুকুর-ডোবায় গোসল করেন। নারী ও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন রোগে। বসবাসের অনুপযোগী আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্প ছেড়ে অনেকে আগের ঠিকানায় চলে গেছেন।


ভুক্তভোগীরা জানান, প্রকল্পের আওতায় ঘর বরাদ্দের সময় প্রত্যেক বসতি পরিবারকে ২৫ ডিসি করে জায়গা রেজিস্ট্রি করে দেয় সরকার। ওই সময় কিছু মানুষ নিজেদের বাড়ি জমি থাকার পরেও এটুকু সম্পদের লোভ সামলাতে না পেরে তথ্য গোপন করে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ঘর বরাদ্দ নেয়। অনেকে আছেন যারা কিনা একটি দিনও পরিবার নিয়ে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসতি গড়েননি। অথচ তাদের নামেই ঘরগুলো রয়ে গেছে বছরের পর বছর ধরে।


দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস, বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন, মাগুরা বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পের কোনো ঘরই বসবাসের উপযুক্ত নয়। জরাজীর্ণ ঘরগুলোর দ্রুত মেরামত প্রয়োজন।


এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার এসএম ফেরদৌস ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পে বসবাসরত মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

 


৩০-০৭-২০১৮ ০৪:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 164 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

চৌহালী নিউজঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

নির্বাচিত খবরসমুহ
তাড়াশ : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

স্পন্সরড অ্যাড

ভিজিটর সংখ্যা
100
২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন