এনায়েতপুরে চলছে যমুনার তাণ্ডব||চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
১৬ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    

     সর্বশেষ সংবাদঃ

চৌহালী/এনায়েতপুর: দূর্ঘটনা

এনায়েতপুরে চলছে যমুনার তাণ্ডব
অনলাইন নিউজ এডিটর ১১-০৭-২০১৮ ০৪:৩৩ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ


এনায়েতপুরে চলছে যমুনার তাণ্ডব

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যমুনা নদী নিজের আগ্রাসী মূর্তি নিয়ে এবার আবির্ভূত হয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুরে। দীর্ঘ ২৬ বছর পর গত বছরের শেষের দিকে যমুনার পশ্চিমতীর এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে পাচিল পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে।


অপরদিকে, নদীর পূর্বপাড়ে চৌহালী উপজেলার খাষ পুকুরিয়া থেকে পাথালিয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রায় দুই যুগ ধরে এ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে দফায় দফায় ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে হাজার হাজার বাড়িঘর, হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি। বছরের পর বছর যমুনায় একে একে বিলীন হয়েছে চৌহালী উপজেলা পরিষদের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এ উপজেলাটি সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক দ্বীপে রূপান্তর হয়েছে। 


চৌহালীকে মানচিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর এবার এনায়েতপুরে শুরু হয়েছে যমুনার আগ্রাসন। গত এক মাসে প্রায় সাতশ’ বাড়িঘর, দুইশ’ হেক্টর জমি, তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চারটি মাদ্রসা, আট/১০টি মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। 


সোমবার বিকেলে এনায়েতপুরের খুকনী ইউনিয়নের আড়কান্দি, ব্রাহ্মণগ্রাম ও জালালপুর ইউনিয়নের বাঐখোলা এলাকায় গিয়ে ভাঙনের তীব্রতার পাশাপাশি ভাঙন কবলিত মানুষের দূরাবস্থার চিত্র দেখা যায়। 


স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের শেষ দিকে শুস্ক মৌসুমে এনায়েতপুরের ব্রাহ্মনগ্রাম থেকে পাচিল পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ধীরে ভাঙ্গন শুরু হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। অব্যাহত ভাঙ্গনে শত শত বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন কবলিত মানুষ স্বর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয়হীন পড়েছে। বেশ কটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও চলে গেছে নদীগর্ভে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে আরও হাজার হাজার পরিবার। 


ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সোহরাব আলী বলেন, গত এক মাসের ব্যবধানে ব্রাহ্মণগ্রামের চারশ’ বাড়িঘর, দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মসজিদ, তিনটি মাদ্রাসা এবং শত শত একর কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর।


আড়কান্দি এলাকার ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান বলেন, ঈদের পর থেকে আড়কান্দি গ্রামের প্রায় একশ’ বাড়ি ও দু’টি মসজিদ বিলীন হয়েছে। 


জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ জানান, যমুনার তীব্র ভাঙনে জালালপুর ইউনিয়নের বাঐখোলা, পাকড়তলা ও ভেকা গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 


খুকনী ইউপি চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া বলেন, ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের বৃহৎ এনায়েতপুর তাঁত কাপড়ের হাট, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়, আঞ্চলিক সড়ক এবং পাঁচ গ্রামের প্রায় ২৭ হাজার বাড়িঘর ও তাঁত কারখানা। 


শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হুসেইন খান বলেন, এনায়েতপুরের নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণও করা হচ্ছে। ভাঙন কবলিতদের মধ্যে এরই মধ্যে সাড়ে তিনশ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জিআর বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আশা করছি, দু-একদিনের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া যাবে। 


সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর পর গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে এনায়েতপুরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে এ এলাকার ছয় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প প্রস্তুত করে আটশ’ কোটি টাকার একটি প্রস্তাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, অচিরেই এটি অনুমোদন হবে। এছাড়া ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ভাঙনরোধ করা সম্ভব হবে। 


১১-০৭-২০১৮ ০৪:৩৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 111 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

চৌহালী নিউজঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

নির্বাচিত খবরসমুহ
চৌহালী/এনায়েতপুর : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

স্পন্সরড অ্যাড

ভিজিটর সংখ্যা
100
১৬ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন