শাহজাদপুরে বাঁধ ভেঙে দিলেন জেলেরা, চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত||চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১০:০৮ অপরাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    

শাহজাদপুর: দূর্ঘটনা

শাহজাদপুরে বাঁধ ভেঙে দিলেন জেলেরা, চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত
অনলাইন নিউজ এডিটর ০৯-০৭-২০১৮ ০২:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ


শাহজাদপুরে বাঁধ ভেঙে দিলেন জেলেরা, চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর রাউতারায় নবনির্মিত রিং বাঁধটি ভেঙে দেওয়ায় উপজেলার পশ্চিম এলাকার তিন ইউনিয়নসহ চলনবিল অঞ্চলের ৯ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

 
শনিবার সকাল ও দুপুরে দুই দফায় দুটি স্থানে রিং বাঁধটি ভেঙ্গে দিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও নৌকা চালকরা। এতে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে ফসলের মাঠ ও গো-বাথান। ফলে কৃষকরা তাদের গবাদি পশুগুলো বাড়িতে নিয়ে রেখেছেন। কাঁচা ঘাসের মাঠ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় গো-খাদ্যের দাম বস্তাপ্রতি ২/৩শ টাকা করে বেড়ে গেছে। এ ঘটনায় এ অঞ্চলের গো-খামার মালিক ও গবাদি কৃষকরা তাদের পশুর খাদ্য নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।


গত ১ মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৫৮১.৯৬ টাকা ব্যয়ে শাহজাদপুর উপজেলার পেতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা সুইচগেট সংলগ্ন ১২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এ রিং বাঁধটির নির্মাণ করা হয়। প্রতি বছর বন্যার হাত থেকে এ অঞ্চলের কৃষকদের রক্ষার জন্য সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এটি নির্মাণ করে। আর প্রতি বছরই এ এলাকার মৎস্যজীবী ও নৌকা চালকরা তাদের সুবিধার জন্য এ বাঁধ কেটে দেয়। তবে এ বছর বন্যা দেরিতে আসায় কৃষকরা আগেই জমি থেকে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।


আহমেদ আলী, আফসার খানসহ অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের মাধ্যমে এ বাঁধ নির্মাণের নামে গত ৩৭ বছরে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা এভাবে হরিলুট করেছেন। এ বছরও তাই করলেন। এলাকাবাসী আরো জানায়, ১৯৯৪ সালের পর থেকে এ অঞ্চলে ধান কাটা হয়ে গেলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পায়। এতে কোনো ফসলহানী হয় না। তারপরেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ফসল রক্ষার নামে প্রতি বছরই এ বাঁধ নির্মাণ করে। বাঁধটি নির্মাণের ফলে এ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি ও জলাশয়ে দেরিতে বন্যা হয়। এতে মৎস্যজীবীরা আশানুরূপ মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হন। বাঁধ থাকলে বন্যা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। দেরিতে বন্যা হলে নৌকা মালিকরা লোকসানে পড়েন। তাই তারা এই লোকসানের হাত থেকে রেহাই পেতে ধান উঠে যাওয়ার পরপরই বালু দিয়ে তৈরি এ বাঁধ কেটে দেন। এ বছরও তারা সে কাজটিই করলেন।


শনিবার তারা এ বাঁধ কেটে দিয়েছেন তারা। ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় শাহজাদপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের কায়েমপুর, রূপবাটি ও পোতাজিয়া ইউনিয়নের সকল গ্রামসহ চলনবিল অঞ্চলের ৮ উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর ফসলি জমি বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।


এছাড়া নিচু অনেক কাঁচা রাস্তাঘাটও এ বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে এ অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ মানুষ বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।


পোতাজিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী জানান, আমাদের এখানকার কৃষকরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই নিম্নমানের বালু দিয়ে তৈরি লো-হাইড রিং বাঁধ নির্মাণে খুবই ক্ষুব্ধ। নদীতে পানি বাড়লেই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ভয়ে কৃষকের বুক কাঁপে। তাই তারা আর এই নিম্নমানের বালু দিয়ে তৈরি রিং বাঁধ চায় না, তারা স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ চায়।


শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খান বলেন, সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ বাঁধ যারা নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থে কেটে দিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।


সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, শাহজাদপুর উপজেলার নবনির্মিত রাউতারা রিং বাঁধটি আসলে ডুবন্ত বাঁধ। প্রতি বছর এ বাঁধটি সংস্কার করা হয় ওই এলাকার কৃষকদের জন্য অর্থাৎ জমির ফসল রক্ষা করার জন্য। বর্ষা মৌসুমে আপনা আপনি বাঁধটি ডুবে যায়। শুস্ক মৌসুমে আবারো বাঁধটি সংস্কার করা হবে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।


০৯-০৭-২০১৮ ০২:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 205 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

চৌহালী নিউজঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

নির্বাচিত খবরসমুহ
শাহজাদপুর : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

স্পন্সরড অ্যাড

ভিজিটর সংখ্যা
100
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১০:০৯ অপরাহ্ন