যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ! 'সরকারী সহয়তা পর্যাপ্ত'-- এমপি স্বপন||চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৩১ অপরাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    

শাহজাদপুর: জনদুর্ভোগ

যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ! 'সরকারী সহয়তা পর্যাপ্ত'-- এমপি স্বপন
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ১৫-০৮-২০১৭ ০৩:১৫ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ


ফাইল ছবি

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে শামছুর রহমান শিশির : অকস্মাৎ ২য় দফা যমুনার বানের পানি দু’কূল ছাপিয়ে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোর ঘরবাড়ি, ফসল, নলকূপ ও গ্রামীণ জনপদকে প্লাবিত করেছে। শাহজাদপুরের বিভিন্ন এলাকা, যমুনার বিস্তৃত চরাঞ্চল, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর, জামালপুর, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার যমুনা নদী-তীরবর্তী বিস্তৃর্ণ এলাকা অকস্মাৎ বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহতায় রূপ নিয়েছে। এতে যমুনা তীরবর্তী লাখ লাখ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত যমুনার বানের পানি বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী-তীরের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর মাঠের ফসল, ঘাট ও জনপদ প্লাবিত হয়েছে এবং নতুন নতুন এলাকা বানের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে অগণিত পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। হঠাৎ বানের পানিতে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে নলকূপ ডুবে যাওয়ায় যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় পয়োঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থা লাজুক আকার ধারণ করায় ডায়রিয়া, আমাশয়, উদারাময়, চর্মরোগসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে যমুনাপাড়ের অগণিত জনমানুষ। স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন জানিয়েছেন, 'আসন্ন বন্যা মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকারীভাবে জেলার বানভাসীদের মধ্যে ১'শ ৭০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বন্যার্তদের আতংকিত হবার কিছু নেই। বানভাসীদের দুর্ভোগ-দুর্গতি লাঘবে ও দুর্যোগ মোকাবেলায় বদ্ধপরিকর। সরকার গুরুত্বসহকারে জনমানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছে। ' যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার দুপুরে বিপদ সীমার ১১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ৩ দিনে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৪৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদ সিমার ১১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর পানি বাড়ার সাথে সাথে জেলার ৫ উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩'শ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আর এর ফলে ভোগান্তিতে রয়েছে এসকল অঞ্চলের বন্যার্ত মানুষেরা। যুমনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলসহ সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। অপরদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চৌহালী ও শাহজাদপুরের কৈজুরীতে উপজেলায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানান, দ্বিতীয় দফায় যমুনার পানি যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বড় ধরনের বন্যার আশংকা রয়েছে। আর পানি আরো দুই দিন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলার বাধ একালার বিশেষ করে সদর উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধটির ক্ষতির আশংকা রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা জানান, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ৩০০টি গ্রামে পনি প্রবেশ করেছে । ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারন করতে জরিপ চলছে। ইতিমধ্যে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ১'শ ৭০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ আট লক্ষ বিশ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। জানা গেছে, অসময়ে ভারত বন্যার পানি ছেড়ে দেয়ায় প্রায় ৫/৬ দিন ধরে যমুনায় প্রতিদিন অস্বাভাবিক হারে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। অকস্মাৎ বানের পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি ফেলে গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানের সন্ধানে ছুটতে শুরু করেছে বানভাসী জনমানুষ। যমুনার অকস্মাৎ বানে নদীতীরের গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে খামারীরা। মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় গোসম্পদ সমৃদ্ধ এ জনপদে কাঁচাঘাসসহ গোখাদ্যেরও তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার শিল্প প্রতিষ্ঠান, গো-খামার, তাঁত কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানে বানের পানি ঢুকতে শুরু করায় ওইসব প্রতিষ্ঠান ক্রমেই বন্ধ হতে শুরু করেছে। এতে মহাবেকায়দায় পড়েছে ওইসব প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ আর শ্রমিকদের পড়েছে মাথায় হাত। প্রতিদিনই অগণিত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে। যমুনার বানের পানিতে নদী তীবরর্তী বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ জনপদ তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার সাথে শহরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ও ভেলাই এসব এলাকার একমাত্র বাহন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শাহজাদপুর-কৈজুরী উঁচু সড়কের দুই পাশে বসবাসকারী হাজার হাজার সহায় সম্বলহীন উদ্বাস্তুদের ঘরেও বানের পানি ঢুকে পড়ায় তারা খেয়ে না খেয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। এছাড়া যমুনা নদীতে বানের পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুর, সরিষাবাড়ী, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার যমুনা নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহতায় রূপ নিয়েছে। এতে বন্যাকবলিত বিস্তীর্ণ এলাকার লাখ লাখ এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করছে। মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী কৈজুরী, জামিরতা, জগতলা, কাশিপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েকদিনের বানের পানি মরা যমুনার দু’কূল ছাপিয়ে মাঠ, ঘাট, জনপদ ও আশপাশের এলাকা, বাড়িঘর, স্কুল কলেজ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বানের পানি ঢুকে পড়েছে। যমুনার বানের পানি বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে শুরু করায় কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে বানের পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। যমুনার বানের পানিতে দু’কূল ছাপিয়ে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ডুবে গেছে অসংখ্য নলকূপ। ফলে এসব এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। দূষিত পানি পান করা ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করায় নানা পানিবাহিত রোগে আমজনতার আক্রান্তের হার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মরা যমুনায় বানের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা তীরবর্তী এলাকা গাবতলী, সারিয়াকান্দি, জামালপুর, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার লাখ লাখ জনমানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। যে হারে প্রতিদিন যমুনা নদীতে বানের পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাক্ষুসী নদীবক্ষ ফুলে ফেপে উঠছে তাতে ওই পানিবৃদ্ধির হার আর দু’চারদিন অব্যাহত থাকলে নদী তীরবর্তী এসব এলাকায় মহাদুর্যোগ অবস্থা নেমে আসবে বলে অভিজ্ঞ মহল জানিয়েছেন। যমুনায় বান ডাকায় যমুনার শাখা নদী করতোয়া, বরাল, হুরাসাগরসহ বিভিন্ন নদীতেও বানের পানি দু’কূল ছাপিড়ে উপচে জনপদ প্লাবিত করায় ওইসব শাখানদী তীরবর্তী এলাকাবাসীর দুর্ভোগ, দুর্গতিও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই শাহজাদপুরসহ যমুনা নদী তীরের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে যমুনা তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের হতদরিদ্র লাখ লাখ এলাকাবাসী। মরা যমুনা ফুঁসে রাুসী রূপ ধারণ করায় শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জসহ যমুনা তীরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর অগণিত হতদরিদ্র জনমানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও তীব্র খাবার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

১৫-০৮-২০১৭ ০৩:১৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 728 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

চৌহালী নিউজঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

নির্বাচিত খবরসমুহ
শাহজাদপুর : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

স্পন্সরড অ্যাড

ভিজিটর সংখ্যা
100
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৩১ অপরাহ্ন