ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে ১ লাখ ৬৯ হাজার কোরবানির গরু||চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০৫:১৫ অপরাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    

জাতীয়: অর্থনীতি

ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে ১ লাখ ৬৯ হাজার কোরবানির গরু
স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ১৫-০৮-২০১৭ ০২:২১ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ


ফাইল ছবি

আশরাফুল ইসলাম রনি :
ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে চলনবিলাঞ্চলের সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে কোরবানির গরু। এ অঞ্চলের খামাারী ও চাষিরা প্রতিযোগীতামূলকভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার গরু মোটাতাজা করছেন। ভারত থেকে গরু আমদানি কমে যাওয়া এ অঞ্চলের গো-খামারীরা এ বছর বেশি লাভের আশা করছেন। তবে ভারত, নেপাল ও মায়ানমার থেকে গরু আমদানি হলে দেশি গরুর দামে কমে যাবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
তাছাড়া সিরাজগঞ্জ সদর, শাহাজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, বেলকুচি, চৌহালী, রায়গঞ্জ অঞ্চলের অনেক খামারীরা জানান, বাজারে প্রাকৃতিক নিয়মে মোটাতাজা গরুর মধ্যে পাবনা ব্রিড, অষ্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড। তবে এর পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় ব্রিডিং পদ্ধতি যা লোকাল ক্রস ব্রিড নামে পরিচিত। এসব ব্রান্ডের সব গরুই মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া বড় করে বাজারে তোলা হয়। গরু মোটাতাজাকরণ একটি নিয়মিত ও প্রচলিত পদ্ধতি। বিশেষ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত ইউরিয়া, লালিগুড় ও খড়ের একটি বিশেষ মিকচার আট দিন কোন পাত্রে বন্ধ করে রেখে তা রোদে শুকিয়ে গরুকে খাওয়াতে হয়। তিন মাস এটা খাওয়ালে গরু খুব দ্রুত মোটাতাজা হয়ে ওঠে। এই গরুর মাংস মানব স্বাস্থ্যের জন্য ¶তিকর নয়।
খামারী মালিক আব্দুস সাত্তার জানান, সাধারণত গরুকে প্রাকৃতিক পন্থায় মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে খড়, লালি গুর, ভাতের মার, তাজা ঘাস, খৈল, গম, ছোলা, খোসারী, মাসকালাই, মটরেরভূসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেয়া হয়। গরুর জন্য এটা বিজ্ঞানসম্মত। এ নিয়মে গরু মোটাতাজা করা হলে ক্রেতা আর্থিকভাবে ¶তিগ্রস্ত হন না। এ ধরনের গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা গরুর চাহিদা ও দাম ভাল পাওযা যায়।

এদিকে তাড়াশ উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা: মো: আবু হানিফ জানান, তাড়াশ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার খামারী রয়েছেন। ঈদকে সামনে রেখে এ উপজেলায় প্রায় ১১হাজার গরু দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করন করছেন খামারীরা। এ উপজেলায় প্রায় ৫হাজার গরুর চাহিদা রয়েছে। এখানে চাহিদা মিটিয়ে এ উপজেলার গরু দেশে বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হয়। অন্যান্য বছরের বিভিন্ন মেডিসিন ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করনের ফলে খামারিরা অনেক গরু মারা যাওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। এ কারনে এখন তারা নিজেরাই দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলার চর-শিকার গ্রামের খামারী মালিক  আব্দুল আজিজসহ অনেকেরই অভিযোগ, ঈদুল আজহা সামনে রেখে এ অঞ্চলের এক শ্রেনীর অসাধু মওসুমি ব্যবসায়ী গরুকে মোটাতাজা করতে ব্যবহার করছে নানা ধরনের ঔষধ। তারা রোগাক্রান্ত গরু অল্প টাকায় কিনে মোটাতাজা করে বেশি লাভে বিক্রি করে। অধিক লাভের আশায় গরু মোটাতাজা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে চোরাপথে আসা ভারতীয় ডেক্সন, ষ্টেরয়েড, হরমোন, উচ্চমাত্রার রাসায়নিক। এসব ওষুধ বিভিন্ন ফার্মেসি গবাদিপশু চিকিৎসালয়ে পাওয়া যায়। ফার্মেসি ব্যসায়ীরা সহজেই এসব ওষুধ গরু ব্যসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এসব ওষুধ গরুকে খাওয়ালে কয়েক মাসের মধ্যে গরুর শরীর ফুলে মোটা হয়ে যায়। এই গরু দেখতে সুন্দর হয়।
তবে বিশেষজ্ঞের মতে, পাম, ডেক্সামেথাথন ও ষ্টেরয়েড ট্যাবরেট খাওয়ানোর পর গরুর চামরার ভেতরে বাড়তি পানির স্তর জমে গরুকে বেশি মোটাতাজা ও সবল দেখায়। এতে কমে যায় গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। পাম বড়িতে ক্ষতিকর ষ্টেরয়েড থাকে। ষ্টেরয়েড গরুর দেহে মারাত্মক বিষ ছড়িয়ে দেয়। এতে গরুর লিভার নষ্ট হয়ে যায়। ষ্টেরয়েড মিশ্রিত গরুর মাংস মানব শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি এমন পদার্থ যা মাত্রাতিরিক্ত তাপেও ধ্বংস হয় না।
এ ছাড়া শাহজাদপুরের খামারী মালিক রমজান সরকার জানান, ইনজেকশন বা ওষুধ দিয়ে দ্রুত মোটাতাজা করা গরুর গায়ে শক্তি থাকে না, মাদকাসক্ত মানুষের মতো ঝিমায়। অনেক সময় মানুষের মতো ষ্ট্রোক করে মারা যায় এসব গরু। বিগত দু’বছর এ অঞ্চলের খামারী ও চাষিরা কৃত্রিম পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে বাজারে বিক্রি করতে না পেরে লোকসান দিয়েছেন। ফলে এ বছর সিরাজগঞ্জ ও পাবনার শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ খামারী ও চাষি প্রাকৃতিক নিয়মে গরু মোটাতাজা করছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
তাছাড়া কয়েকজন খামারিরা বলেন, স্টেরয়েড খাওয়ানো গরু চেনার উপায় হলো যেসব গরু নীরব থাকে, ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না। এসব গরুর পেছনের দিকের উরুর পেশিবহুল জায়গায় আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে তা দেবে যাবে। কারন বাইরে থেকে গোশত মনে হলেও গোশতের সাথে প্রচুর পরিমান পানি থাকে। কৃত্রিমভাবে মোটা করা এসব গরুকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাই না করলে মারা যায়।
শাহাজাদপুর উপজেলার আঙ্গারু গ্রামের খামারী আব্দুল মান্নান জানান, তিনি গত বছর প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ২০টি গরু মোটাতাজা করে ঈদের আগে বিক্রি আড়াই লাখ টাকা লাভ করেন। এবারও তিনি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ৩০টি গরু মোটাতাজা করছেন। তবে কিছু কিছু অসাধু মওসুমি ব্যবসায়ী কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করছে, এতে খামারী ও চাষিদের বদনাম হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. হারুন-অর-রশিদ জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রায় ২৭ হাজার গরু মোটাতাজার করন খামার রয়েছে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে এ জেলায় প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার গরু মোটাতাজা করে ঈদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলার এক লাখ কোরবানীর চাহিদ মিটিয়ে অতিরিক্ত ৬৯ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন স্থানের চাহিদা পুরুন করবে বলে জানান তিনি। তবে গত বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ ষাড় গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে।

 


১৫-০৮-২০১৭ ০২:২১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 932 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

চৌহালী নিউজঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

নির্বাচিত খবরসমুহ
জাতীয় : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

স্পন্সরড অ্যাড

ভিজিটর সংখ্যা
100
১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০৫:১৫ অপরাহ্ন