শাহজাদপুরের ৪ কিঃমি ‘মুজিব বাঁধ’ চলাচলের অযোগ্য : ১৪ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল||চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৬:১০ পূর্বাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    

শাহজাদপুর: জনদুর্ভোগ

শাহজাদপুরের ৪ কিঃমি ‘মুজিব বাঁধ’ চলাচলের অযোগ্য : ১৪ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ১৮-০২-২০১৭ ০৫:০৯ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ


ফাইল ছবি

শামছুর রহমান শিশির : সিরাজগঞ্জ জেলার তাঁতসমৃদ্ধ শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের বাঘাবাড়ী দক্ষিণ পাড় থেকে শুরু করে বেড়া পাম্প হাউজ পর্যন্ত মাত্র ৪ কিলোমিটার ‘মুজিব বাধ’ সড়কটি চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত প্রায় অর্ধলক্ষাধিক লোকের চলাচলে ও মালামাল পরিবহনে সীমাহীন দুর্ভোগ-দুর্গতি পোহাতে হচ্ছে। জনসাধারনের এ জনদুর্ভোগ লাঘবের  কেউ নেই। ফলে শাহজাদপুর উপজেলার গালা ও রূপবাটি ইউনিয়ন এবং বেড়া উপজেলার বেশ কিছু  গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক লোকের দুর্ভোগ-দুর্গতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া এ সড়কটির কিছুদুর পরপরই প্রস্থ এতটাই সংকীর্ণ ও সরু যেখান দিয়ে একটি রিক্সা বা ভ্যান চলাচলই দূরহ হয়ে পড়েছে। ফলে ওই ঝূঁকিপূর্ণ সরু সড়ক দিয়ে মালামাল পরিবহনে দশ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ঘন্টার ওপরে সময় লাগছে। জনগুরুত্বপূর্ণ খানাখন্দে ভরা ওই সড়ক দিয়ে বাঘাবাড়ী, রামখাড়–য়া, চয়রা, বেড়া, মোয়াকোলা, আহম্মদপুর (ডোমবাড়িয়া), করশালিকা, আন্ধারমানিক,ভূল বাকুটিয়া, কুলিয়ারচর, ধুনাইল, বাগধুনাইল এলাকাসহ আশেপাশের বিশাল জনগোষ্ঠি নিয়মিত চলাচল ও কৃষিপন্যসহ সকল ধরনের মালামাল পরিবহনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অথচ মাত্র ৪ কিলোমিটারের অতি স্বল্প দৈর্ঘ্যরে ওই মুজিব বাধ নামক সড়কটি পাঁকা করা হলে একদিকে যেমন এলাকাবাসীর দুর্ভোগ-দুর্গতি কমবে,অন্যদিকে তাদের সময় ও অর্থেরও সাশ্রয় হবার পাশাপাশি কৃষিসমৃদ্ধ এলাকা যোগাযোগ ব্যবস্থায় নবদিগন্তের সূচনা হবে।
    সরেজমিন ওই সড়ক পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানায়, বাঘাবাড়ী দক্ষিণ পাড় থেকে বেড়া পাম্প হাউজ পর্যন্ত মাত্র ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মুজিব বাধটি প্রায় তিন দশক পূর্বে নির্মান করা হয়েছিল। এ সড়কটি নির্মান করে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলাকে বন্যার আওতামূক্ত করা হয়। ফলে এ বাধটি নির্মাানের পর থেকেই বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলায় এক ফসলের পরিবর্তে বর্তমানে বহু ধরনের ফসল ও সবজির আবাদ করা হচ্ছে। ফলে এ এলাকার কৃষিখাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে কৃষকেরা। অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ওই বাধটি প্রায় ৭/৮ বছর ধরে কোনরূপ সংস্কার ও মেরামত না করায় মাত্র ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘের ওই সড়কের বিভিন্ন অংশে বিগত বন্যাগুলোর সময় প্রবল পানির তোড়ে মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন কোনরূপ সংস্কার বা মেরামতকাজ না করায় এ সড়কটির বিভিন্ন অংশে পিচ পাথর উঠে গিয়ে অসংখ্য খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার সময় এ সড়কটি ভেঙ্গে পড়লে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার কৃষিখাতে অবর্ণনীয় ক্ষতি সাধিত হতে পারে। বাঘাবাড়ী পূর্বপাড় মহল্লার মোজাহার আলীর পুত্র মিজানুর রহমান জানান, ‘দীর্ঘদিন এ সড়কটি চরম অবহেলায় রয়েছে। এ সড়কের ওপর দিয়ে লোকজন ও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ১৪ গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোকজনের চলাচল, মালামাল পরিবহন অত্যন্ত দূরহ ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ সড়কের বিভিন্ন স্থানের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী নিরূপায় হয়ে এ সড়কদিয়ে দ্বিগুন সময় ও দ্বিগুন অর্থ ব্যায় করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসদর থেকে ওইসব গ্রামের অবস্থানগত দুরত্ব খুব বেশী না হলেও আধুনিক যোগাযোগের স্পর্শের অভাবে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি আজও মান্ধাতা আমলের অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কটি দিয়ে জনসাধানের চলাচল ছাড়াও শতশত স্কুল-কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়মিত চলাচলসহ সকল ধরনের পন্য ও মালামাল আনানেওয়া করতে তারা বাধ্য হচ্ছে। এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত, ধান, চাল, পাট, সরিষা, দুধের ক্যান, সার, জ্বালানী তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ নানা ধরনের মালামাল ও কৃষিপন্য আনা নেওয়া করা হয়। ওইসব এলাকা কৃষিসমৃদ্ধ এলাকা হিসাবে বিবেচিত হলেও সংস্কারের অভাবে কৃষিখাতের  অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে চলাচলের অনুপোযোগী এ সড়কটি । এ সড়ক দিয়ে ১৪ গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক ঝূঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রতিটি ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার সন্মুখীন হতে হচ্ছে। কিন্তু এলাকাবাসীর এসব সমস্যা দেখার কেউ নেই। সড়টি মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যপারে গতকাল সোমবার রূপবাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম শিকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ওই সড়কটি চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় এসব এলাকা থেকে বাঘাবাড়ী মিল্কভিটায় দুধের ক্যানসহ সকল ধরনের কৃষি পন্যদ্রব্য ও মালামাল পরিবহন করা অত্যন্ত মুশকিল হয়ে পড়েছে। ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘মুজিব বাধ’ নামের এ সড়কটি পানি উন্নয়নবোর্ডের আওতাভূক্ত। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই। সড়কটি সংস্কার, মেরামত সবই পানিউন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ করে থাকেন। তবে পাউবো’র উচিৎ বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলাকে বন্যা থেকে রক্ষায় নির্মিত এবং ১৪ গ্রামবাসীর চলচলের সুবিধার্থে এই মুজিব বাধটি দ্রুত সংস্কার ও মেরামত করা’। এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, বর্তমান শুষ্ক মৌওসুমে এ সড়কটির ক্ষতিগ্রস্থ অংশ দ্রুত মেরামত করা না হলে বন্যার সময় নিঃসন্দেহে সড়কটি ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। বন্যার পানির প্রবল তোড়ে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্থ অংশটিও ভেঙ্গে গেলে এলাকাবাসীর সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও বিপর্যয় কোন ভাবেই রোধ করা সম্ভব হবে না। এ সড়কটি মেরামত,সংস্কার করা হলে বন্যার আওতামুক্ত বেড়া ও সাঁথিয়া বন্যাজনিত ঝূঁকি থেকে মুক্ত হতো এবং ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী অর্ধলক্ষাধিক লোকের জনদুর্ভোগও পূর্ণাঙ্গরূপে লাঘব হতো। ফলে ওই গুরুত্বপূর্ন সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও মেরামত করতে ভূক্তভোগী প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক এলাকাবাসী সংশি¬ষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

১৮-০২-২০১৭ ০৫:০৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 445 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

চৌহালী নিউজঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

নির্বাচিত খবরসমুহ
শাহজাদপুর : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে চৌহালী নিউজঃ
চৌহালী নিউজঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

স্পন্সরড অ্যাড

ভিজিটর সংখ্যা
100
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৬:১০ পূর্বাহ্ন